চন্দ্রনাথ গল্প (তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়) | নবম শ্রেণী বাংলা চন্দ্রনাথ গল্প সাজেশন ২০২২ | class 9th chndranath golpo suggestion 2022



চন্দ্রনাথ গল্প (তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়) |অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | চন্দ্রনাথ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর ২০২২ | নবম শ্রেণী বাংলা  চন্দ্রনাথ গল্পের সাজেশন ২০২২


1. কোথা থেকে কী ভাবতে ভাবতে কথক বাড়ি ফিরেছিলেন? 

উত্তরঃ সারকুলার রোডের সমাধিক্ষেত্র থেকে বের হয়ে চন্দ্রনাথের কথা ভাবতে ভাবতে কথক বাড়ি ফিরেছিলেন।

2. কথকের জীবনে চন্দ্রনাথের স্মৃতি কীরুপ ছিল?

উত্তর :  কথকের জীবনে চন্দ্রনাথ গভীর রাত্রির আকাশে বিচরণকারী কালপুরুষ নক্ষত্রের মতো ভাস্বর ও প্রদীপ্ত হয়ে ছিল।

3. চন্দ্রনাথের সঙ্গে কালপুরুষ নক্ষত্রের কী সাদৃশ্য লেখক খুঁজে পেয়েছিলেন?

উত্তর : চন্দ্রনাথের আকৃতির সঙ্গে লেখক কালপুরুষ নক্ষত্রের খড়্গধারী বিশালকায় আকৃতির সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছিলেন।

4. “...বলিতে পারি না...”- কার কী বলতে না পারার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর : গল্পের কথক এবং তাঁর সহপাঠী চন্দ্রনাথ, হীরু কীভাবে একই সময়ে ক্ষুদ্র এক গ্রামের মধ্যে এসে পড়েছিলেন তা কথক বলতে পারবেন না।

5. “...আমার দিকে চিন্তাকুল নেত্রে চাহিয়া বসিয়া আছে।”— কে, কার দিকে তাকিয়ে বসে আছে?

উত্তর :  গল্পকথক দেখেছিলেন যে সামনের দেয়ালে বড়ো আয়নাটির মধ্যে তাঁরই প্রতিবিম্ব তাঁর দিকে তাকিয়ে বসে আছে।

6. চন্দ্রনাথের কপালে ত্রিশূল চিহ্ন কখন দেখা যায়?

উত্তরঃ চন্দ্রনাথ সামান্য উত্তেজিত হলেই রক্তের চাপ বেড়ে গিয়ে প্রবল হয়ে কপালের শিরা ফুলে উঠে ত্রিশূল চিহ্ন দেখা যায়।

7. হেডমাস্টারমহাশয় কোথায় বসে থাকতেন?

উত্তরঃ স্কুলের বোর্ডিং-এর ফটকের সামনে চেয়ার-বেঞ্চের আসন পেতে হেডমাস্টারমহাশয় বসে থাকতেন।

8. চিন্তাকুল বিমর্ষ নেত্রে আমাকে বলিলেন.... -- কী বলার কথা বলা হয়েছে? 

উত্তর: চন্দ্রনাথ কী বলে কথক নরেশকে তা জেনে বলেছেন চিন্তান্বিত হেডমাস্টারমহাশয়।

9. চন্দ্রনাথ পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিল কেন?

উত্তরঃ চন্দ্রনাথ স্কুলের পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়ে দ্বিতীয় পুরস্কার গ্রহণ করবে না বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছিল।

10. দ্বিতীয় হওয়ার জন্য চন্দ্রনাথ পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিল কেন ? 

উত্তর : চন্দ্রনাথ দ্বিতীয় পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিল কারণ, এর আগে স্কুলের পরীক্ষায় সে কখনও দ্বিতীয় হয়নি।

11. চন্দ্রনাথ কোন ঘটনা প্রসঙ্গে 'বিনিথ মাই ডিগনিটি' কথাটি বলেছে? 

উত্তর: চন্দ্রনাথ স্কুলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সেকেন্ড প্রাইজ অর্থাৎ দ্বিতীয় পুরস্কার নেওয়াকে 'বিনিথ মাই ডিগনিটি' বলেছে।

12. চন্দ্রনাথের দাদা কেমন ধরনের মানুষ ছিলেন?

উত্তরঃ চন্দ্রনাথের দাদা নিশানাথবাবু ছিলেন নির্বিরোধী শান্তপ্রকৃতির মানুষ।

13. চন্দ্রনাথ পরীক্ষার সময় হীরুকে কীভাবে সাহায্য করেছিল?

উত্তরঃ চন্দ্রনাথ পরীক্ষার সময় হীরুকে তিনটে অঙ্ক তার খাতা থেকে টুকতে দিয়ে সাহায্য করেছিল।

14. চন্দ্রনাথের দাদা চন্দ্রনাথকে কী নির্দেশ দিয়েছিলেন?

উত্তর: চন্দ্রনাথের দাদা তাকে হেডমাস্টারমশাইয়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের চিঠি ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

15. “... তোমার বউদি বলত.....” – বউদি কী বলতেন?

উত্তর: চন্দ্রনাথের বউদি তার দাদা নিশানাথবাবুকে বলতেন যে চন্দ্রনাথ অত্যন্ত স্বাধীনচেতা হয়ে উঠেছে।

16. চন্দ্রনাথের দাদাকে নতশিরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কথক কী ভেবেছিলেন?

উত্তরঃ চন্দ্রনাথের দাদাকে নতশিরে দাঁড়াতে দেখে কথক ভেবেছিলেন যে চন্দ্রনাথের ব্যবহারে ব্যথিত ভদ্রলোক আত্মসংবরণের প্রবল চেষ্টা করছেন।

17. বোর্ডিং-এ আসিয়া মাস্টারমহাশয়কে সংবাদটা দিতে গিয়া দেখিলাম...”—কী দেখার কথা বলা হয়েছে?

উত্তরঃ কথক বোর্ডিং-এ ফিরে এসে মাস্টারমহাশয়কে চিন্তিতভাবে তখনও ফটকের সামনে বসে থাকতে দেখেছিলেন।

18. কথক মাস্টারমহাশয়কে চন্দ্রনাথের কাছে যেতে নিষেধ করেছিলেন কেন?

উত্তর : চন্দ্রনাথ যদি মাস্টারমশাইয়ের কথা না শোনে, তাই কথক মাস্টারমশাইকে তার কাছে যেতে নিষেধ করেছিলেন।


আরোও পড়ুন _' নিরুদ্দেশ গল্প (প্রেমেন্দ্র মিত্র ) নিরুদ্দেশ গল্পের সাজেশন ২০২২ | নিরুদ্দেশ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর ২০২২ 

 

চন্দ্রনাথ গল্প (তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়)| ব্যাখ্যা ধর্মী প্রশ্নোত্তর | মধ্যম মানের প্রশ্নোত্তর|চন্দ্রনাথ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর ২০২২ | নবম শ্রেণী বাংলা  চন্দ্রনাথ গল্পের সাজেশন ২০২২


প্রশ্ন : এও হয়তো সেই বিচিত্র সমাবেশ। -- মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো। 

উত্তর: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'চন্দ্রনাথ' গল্পাংশ থেকে প্রশ্নোদ্ভূত মন্তব্যটি নেওয়া হয়েছে।

** চন্দ্রনাথ, হীরু এবং গল্পকথক নরেশ ছিল স্কুলের সহপাঠী এবং একই গ্রামের বাসিন্দা। কিন্তু স্কুলজীবনে তাদের সম্পর্কের রসায়ন ছিল বেশ জটিল। দরিদ্র ঘরের মেধাবী সন্তান চন্দ্রনাথের সঙ্গে ধনীর সন্তান হীরুর সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং কথকের মধ্যস্থতার কাহিনি স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে কথকের মনে হয়। যে, একই গ্রামে তাদের তিনজনের উপস্থিতি যেন আগ্নেয়গিরির গর্ভের ভিতরে প্রলয়ংকর দাহ্যবস্তুর বিচিত্র সমাবেশের মতোই।

প্রশ্ন : দুর্দান্ত চন্দ্রনাথের আঘাতে সমস্ত স্কুলটা চঞ্চল, বিক্ষুত্ব | হইয়া উঠিয়াছে।”— মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'চন্দ্রনাথ' গল্পাংশ থেকে প্রশ্নোদ্ধৃত মন্তব্যটি নেওয়া হয়েছে।

** চন্দ্রনাথ স্কুলের পরীক্ষায় জীবনে প্রথমবার দ্বিতীয় হওয়ার ঘটনাকে মেনে নিতে পারেনি। পরীক্ষায় প্রথম স্থানাধিকারী হীরুর সাফল্যের পেছনে সে অসাধু চক্রান্তের গন্ধ পায়। পাশাপাশি অঙ্ক পরীক্ষায় তারই সাহায্য নেওয়া হীরু কীভাবে প্রথম হল সেই প্রশ্নও তোলে সে। এই কারণে সে দ্বিতীয় পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করে স্কুলে চিঠি দেয়, যা নিয়ে স্কুলে শোরগোল পড়ে যায়।


প্রশ্ন : এই দাম্ভিকটা যেন ফেল হয়— এ কামনাও বোধ হয় | করিয়াছিলাম।”— বক্তার এই মন্তব্যের কারণ গল্প অবলম্বনে আলোচনা করো ।

উত্তরঃ চন্দ্ৰনাথ বাড়িতে বসে নিজের মতো করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার সম্ভাব্য ফলাফল তৈরি করে। চন্দ্রনাথের ব্যাখ্যা অনুযায়ী সে যদি পরীক্ষায় সাড়ে পাঁচশো বা তার বেশি পায় তবে স্কুলে দুজন ফেল করবে। আর সে নিজে যদি পাঁচশো পঁচিশের নীচে পায়, তাহলে দশজন ফেল করবে এবং সেক্ষেত্রে কথক নরেশ থার্ড ডিভিশনে পাস করবে। একথা শুনে কথক অত্যন্ত রেগে যান। এবং দাম্ভিক চন্দ্রনাথ যেন ফেল করে এই কামনা করেন।


প্রশ্ন : দিস ইজ ম্যাথম্যাটিক্স।”— গল্পাংশটি অবলম্বনে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'চন্দ্রনাথ' পদ্মাংশে চন্দ্রনাথ তার নিজের পাওয়া সম্ভাব্য নম্বরের অনুপাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় অন্য সকলের নম্বর হিসাব করেছিল। তার তৈরি করা পরীক্ষার ফলাফল নরেশের পছন্দ হয়নি। কারণ সেখানে চন্দ্রনাথ তার থার্ড ডিভিশনে পাস করার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল। এ কথায় কথক ক্রুদ্ধ হলে চন্দ্রনাথ বলে যে অনুপাতের আঙ্কিক নিয়মে যার মূল্য যতবারই কষে দেখা যাবে তা একই হবে। এটি ম্যাথম্যাটিক্স বা অঙ্ক বলে চন্দ্রনাথ মন্তব্য করে।

প্রশ্ন : এমন বুকে দাগ কাটা দৃষ্টি আমার জীবনে আমি খুব কমই দেখিয়াছি।”— কী দেখে বক্তা এই মন্তব্য করেছেন আলোচনা করো।

উত্তরঃ স্কুলের পরীক্ষায় বরাবর প্রথম হওয়া চন্দ্রনাথ দ্বিতীয় পুরস্কার গ্রহণে অসম্মতি জানিয়ে স্কুলে চিঠি দেয়। তার দাদা নিশানাথবাবু ভাইকে ক্ষমা প্রার্থনা করে তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অটল চন্দ্রনাথ সেই নির্দেশ অমান্য করে। এর জন্য দাদার সঙ্গে সম্পর্কও ছিন্ন করে। এই ব্যবহারে নির্বিরোধী শান্তপ্রকৃতির মানুষ নিশানাথবাবু নীরবে মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে থাকেন। বেদনা এবং ক্রোধ মেশানো তাঁর সেই দৃষ্টির কথাই বলেছেন গল্পকথক।


প্রশ্ন : আমারই অন্যায় হলো।”—বক্তা যে পরিস্থিতিতে এই মন্তব্য করেছেন তা আলোচনা করো।

উত্তরঃ  চন্দ্রনাথ স্কুলের পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয় এবং দ্বিতীয় পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করায় হেডমাস্টারমশাই গল্পকথক নরুকে তার বাড়িতে পাঠান। ক্ষমা চেয়ে চিঠি প্রত্যাহারের জন্য নিশানাথের দেওয়া নির্দেশ অমান্য করে চন্দ্রনাথ। দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পর্কে ছেদ পড়ে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন দাদা নিশানাথ। এই খবর কথকের মুখে শুনে প্রধান শিক্ষক বলেন যে চন্দ্রনাথের দাদাকে এই বিষয়টি জানানোই তাঁর ভুল হয়েছে।


প্রশ্ন :এই প্রস্তাবই আমার পক্ষে অপমানজনক।”—মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ চন্দ্রনাথ স্কুলের পরীক্ষায় জীবনে প্রথমবার দ্বিতীয় হওয়ার পরে বিদ্যালয়ের সম্পাদক এবং প্রথম স্থানাধিকারী হীরুর কাকা হীরুর মাধ্যমে চন্দ্রনাথকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়ার কথা বলে পাঠান। কিন্তু চন্দ্রনাথ তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলে পাঠায় যে তার পক্ষে তা গ্রহণ করা সম্ভব নয়। প্রকৃতপক্ষে, যে হীরুকে যথার্থ প্রথম স্থানাধিকারী বলে চন্দ্রনাথ মনে করে না, তারই কাকা তাকে ‘সান্ত্বনা পুরস্কার' দিচ্ছেন—এই অপমান সহ্য করা চন্দ্রনাথের পক্ষে সম্ভব ছিল না। 

প্রশ্ন : ...গুরুদক্ষিণার যুগ আর নেই।”—মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'চন্দ্রনাথ' গল্পাংশে চন্দ্রনাথ এই মন্তব্যটি করেছে। স্কুলের পরীক্ষায় জীবনে প্রথমবার দ্বিতীয় হওয়াকে সে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিল না। তাই চিঠি দিয়ে দ্বিতীয় পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করে। তা ছাড়া, হেডমাস্টারমশাই তাকে ডেকে পাঠালে সে ডাকও সে ফিরিয়ে দেয়। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয় যে স্কুলের সঙ্গে সব দেনাপাওনা সে মিটিয়ে দিয়ে এসেছে। আপাতভাবে অত্যন্ত দুর্বিনীত মনে হলেও চন্দ্রনাথের এই মন্তব্যে তার তীব্র অভিমানই প্রকাশ পায়।


প্রশ্ন: মনে মনে দুঃখিত না হইয়া পারিলাম না।”— কী কারণে বক্তা এই মত প্রকাশ করেছেন, তা আলোচনা করো।

উত্তরঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য প্রকাশিত ফল জানতে পেরে কথক নরেশ দেখে পূর্ব-অনুমান মতো চন্দ্ৰনাথ পাঁচশো পঁচিশের নীচে নম্বর পেয়েছে এবং তার হিসাবমতো স্কুলের দশজন পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে। গল্পকথকও তৃতীয় বিভাগে কোনোমতে উত্তীর্ণ হন। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে হীরু চন্দ্রনাথকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যায় এবং তার ভাগ্যে জোটে স্কলারশিপও। চন্দ্রনাথের প্রতি কিছু ক্ষোভ থাকলেও কথক এটা ভালোই জানতেন যে শ্রেষ্ঠত্বে চন্দ্রনাথ অনেক এগিয়ে। তাই তার ব্যর্থতায় কথক দুঃখিত হয়েছিলেন।

প্রশ্ন : কিন্তু সেদিন সেখানে তাহার কথা আমি তুলিতে পারি নাই।” কেন বক্তা একথা বলেছেন ?

উত্তর :  তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'চন্দ্রনাথ' গল্পাংশে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় প্রথম স্থানাধিকারী হীরু স্কলারশিপ পাওয়ায় তার বাড়িতে প্রীতিভোজের আয়োজন হয়। বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং গ্রামের সম্মানীয় মানুষদের সেখানে আগমন ঘটে। কাকার দেখানো আইসিএস হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হীরু কথক নরেশকে তার বিলেত যাওয়ার স্বপ্নের কথা জানায়। এই অবস্থায় চন্দ্রনাথের নাম উচ্চারণ করা যথেষ্ট অনুচিত কাজ হত। তাই বারবার মনে পড়লেও সেই আনন্দ অনুষ্ঠানে কথক চন্দ্রনাথের কথা তুলতে পারেননি।


চন্দ্রনাথ গল্প (তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়) |রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর | বড় প্রশ্নোত্তর | চন্দ্রনাথ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর ২০২২ | নবম শ্রেণী বাংলা  চন্দ্রনাথ গল্পের সাজেশন ২০২২


প্রশ্ন : দুর্দান্ত চন্দ্রনাথের আঘাতে সমস্ত স্কুলটা চঞ্চল, বিক্ষুব্ধ হইয়া উঠিয়াছে।”—চন্দ্ৰনাথ যে 'আঘাত' করেছিল তার কারণ কী ছিল ? এজন্য তাকে কী ফলভোগ করতে হয়েছিল ?

উত্তর :  তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চন্দ্রনাথ' গল্পাংশে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় পুরস্কার গ্রহণ না করার কথা জানিয়ে চন্দ্রনাথ স্কুলকে যে চিঠি দেয়, তাকেই ‘আঘাত' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ‘আঘাত’-এর কারণ স্কুলের পরীক্ষায় প্রথমবারের জন্য চন্দ্রনাথের দ্বিতীয় হওয়া। কোনোদিন দ্বিতীয় না হওয়ায় দ্বিতীয় পুরস্কার তার পক্ষে গ্রহণ করা সম্ভব নয় বলে চিঠিতে জানিয়েছিল চন্দ্রনাথ। সেবার পরীক্ষার প্রথম স্থানাধিকারী হীরুর সাফল্যকেও সে মানতে পারেনি। কারণ তার মনে হয়েছিল হীরুর সাফল্য সোজাপথে আসেনি। সে স্কুলের সম্পাদকের ভাইপো এবং স্কুলের জনৈক সহ-শিক্ষক তার বাড়িতে গৃহশিক্ষকতা করেন। তিনি হীরুকে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেখিয়ে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও পক্ষপাতিত্ত্ব করা হয়েছে। এরপরেও অঙ্ক পরীক্ষায় তিনটি অঙ্ক সে চন্দ্রনাথের খাতা থেকে টুকেছে। এসবের ফলেই হীরুর প্রথম হওয়া চন্দ্রনাথ মানতে পারেনি। তাই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করে সে স্কুলকে ‘আঘাত' করে চিঠি লেখে ।

→ এই পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের চিঠি চন্দ্রনাথের জীবনেও বিড়ম্বনা ডেকে আনে। তার নির্বিরোধী দাদা চন্দ্রনাথকে চিঠি প্রত্যাহার করতে নির্দেশ দিলেও চন্দ্রনাথ তাতে রাজি হয় না। ক্ষমা চেয়ে হেডমাস্টারমহাশয়কে চিঠি লেখার প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে চন্দ্রনাথ। শেষপর্যন্ত তিনি চন্দ্রনাথের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ত্যাগ করার কথা বলেন। বিস্ময়করভাবে এতেও চন্দ্রনাথের সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। এরপর চন্দ্রনাথ দাদার থেকে পৃথক হয়ে যায় কিন্তু এতেও তার কোনো চিত্তবৈকল্য দেখা যায় না। সে নিজেকে এবং বন্ধুদের এই বলে সান্ত্বনা দেয় যে, এই ব্যবস্থা তাকে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করবে।

প্রশ্ন : চন্দ্রনাথের সহিত সংস্রব রাখিব না। মনে মনে সংকল্পটা দৃঢ় করিতেছিলাম।”— কোন ঘটনার জন্য কথক এই | সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন? শেষপর্যন্ত চন্দ্রনাথ সম্পর্কে তাঁর মনোভাব কী হয়েছিল ? 

উত্তর: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'চন্দ্রনাথ' পদ্মাংশে স্কুলের পরীক্ষায় প্রথমবারের জন্য দ্বিতীয় হয়ে চন্দ্রনাথ যেসব আচরণ করছিল সেগুলো কথক মেনে নিতে পারেননি। স্কুলকে পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করে চিঠি লেখা, কথককে তৃতীয় বিভাগে পাস করার ভবিষ্যদ্বাণী করা ইত্যাদি কথকের পছন্দ হয়নি। কিন্তু যেভাবে পুরস্কার গ্রহণ না করার চিঠি ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য এবং প্রধান শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য দাদার নির্দেশ সে ঔদ্ধত্যের সঙ্গে অবমাননা করে, তা কথককে বিস্মিত করে। দাদা সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বললে তাও সে মেনে নেয়। শুধু তাই নয়, দাদার সঙ্গে সম্পর্কবিচ্ছেন তাকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করবে, চন্দ্রনাথের এই মন্তব্য কথককে অবাক করে দেয়। যেভাবে অন্যের আবেগ অনুভূতিকে মর্যাদা না দিয়ে চন্দ্রনাথ নিজের অহংবোধকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে সেই স্বার্থপরতা কথকের ভালো লাগেনি বলেই তিনি তার সাথে আর সম্পর্ক না রাখার কথা ভেবেছেন।

→ চন্দ্রনাথ সম্পর্কে কথকের এই মনোভাব ছিল সাময়িক। মনের মধ্যে চন্দ্রনাথ সম্পর্কে কথক এক গভীর শ্রদ্ধার মনোভাব পোষণ করতেন। চন্দ্রনাথের আচরণ সমর্থন করতে না পারলেও তার শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কথক নরেশের কোনো সন্দেহ ছিল না। তাই চন্দ্রনাথ সম্পর্কে 'দাম্ভিকটা যেন ফেল হয়, এই কামনা করলেও যখন চন্দ্রনাথকে পিছনে ফেলে হীরু স্কলারশিপ পায়, তখন তা কথক মানতে পারে না। তার মনে হয় যে চন্দ্রনাথ ও হীরুর মধ্যে অনেক প্রভেদ আছে। স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে দৃপ্ত ভঙ্গিতে চলা চন্দ্রনাথের সঙ্গে কালপুরুষ নক্ষত্রের তুলনার মধ্যে কথকের তার প্রতি শ্রদ্ধার মনোভাবই প্রকাশ পায়।

প্রশ্ন : উৎসবের বিপুল সমারোহ সেখানে। ” — কীসের জন্য উৎসব? উৎসবটির বর্ণনা দাও। এই উৎসব সম্পর্কে চন্দ্রনাথের প্রতিক্রিয়া কী ছিল ?

উত্তর : তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'চন্দ্রনাথ' গল্পাংশে হীরু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় প্রথম হয়ে স্কলারশিপ পাওয়ায় তার বাড়িতে প্রীতিভোজের উৎসব হয়েছিল।

→ উৎসব উপলক্ষ্যে হীরুর বাড়ি খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছিল। ধনী পরিবারের সন্তান হীরুর সাফল্যের উৎসবকে স্মরণীয় করে রাখতে কোনো ত্রুটি রাখা হয়নি। অর্থের প্রাচুর্যের সঙ্গে শৌখিনতার মিশেলে উৎসবটি হয়ে উঠেছিল বর্ণময়। চিনা 

প্রশ্ন : চিঠিখানা হীরুকে ফিরাইয়া দিলাম।”—কোন্ চিঠির কথা বলা হয়েছে? চিঠিতে কী লেখা ছিল ? এই চিঠির বিষয়ে হীরু কী বলেছিল ?

উত্তর: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'চন্দ্রনাথ' গল্পাংশে হীরুর বাড়ির প্রীতিভোজে উপস্থিত না থাকতে পারার জন্য চন্দ্রনাথ হীরুকে যে চিঠি লিখে রেখে গিয়েছিল, সেই চিঠির কথাই এখানে বলা হয়েছে।

■ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় হীরুর স্কলারশিপ পাওয়ার সাফল্য উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চন্দ্রনাথ উপস্থিত হয়নি। সেই কারণে সে হীরুকে একটি চিঠি লিখে গিয়েছিল। চিঠির শুরুতেই হীরুকে প্রথমে ‘প্রিয়বরেষু' সম্বোধন করলেও পরে চন্দ্রনাথ সেটি কেটে ‘প্রীতিভাজনেষু' লেখে। চিঠিতে হীরুর সাফল্যে সে আনন্দ প্রকাশ করলেও তার মধ্যে কোনো আন্তরিকতার ছোঁয়া ছিল না। বরং স্কলারশিপ পাওয়াটা এমন বড়ো সাফল্য নয় যে তার জন্য উৎসব করতে হবে বলে সে হীরুর সাফল্যকে ম্লান করে দিতেও চেয়েছিল। হীরুর বাড়িতে অনুপস্থিতির জন্য মার্জনা চেয়ে নেয় চন্দ্রনাথ ।

যদিও পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার বিষয়ে হীরু এবং চন্দ্রনাথের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল এবং চন্দ্রনাথের কাছে নিজের সাফল্যের স্বীকৃতি হীরু কোনোদিনই পায়নি—তা সত্ত্বেও চন্দ্রনাথের জন্য তার মনের মধ্যে একটা শ্রদ্ধার জায়গা ছিলই। সে কারণেই হীরু আন্তরিকভাবে চেয়েছিল চন্দ্রনাথ তার বাড়ির অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকুক। কিন্তু তা না হওয়ায় চন্দ্রনাথের লেখা চিঠিটিকেই হীরু এক পরম প্রাপ্তি বলে মনে করে। চিঠিখানা নিজের কাছে রেখে দিয়ে সে বলে— “এইটেই আমার কাছে তার স্মৃতিচিহ্ন। 

প্রশ্ন : চন্দ্রনাথ গল্পে চন্দ্রনাথের চরিত্রের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

উত্তর: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চন্দ্রনাথ গল্পে চন্দ্রনাথই কাহিনিটির কেন্দ্রীয় চরিত্র।

• গল্পের শুরুতে প্রাথমিকভাবে চন্দ্রনাথকে মনে হয় নিজের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে সন্দেহহীন এবং অহংকারী এক কিশোর। তাই স্কুলের পরীক্ষায় হীরুর প্রথম হওয়া এবং নিজের দ্বিতীয় হওয়াকে সে মানতে পারে না। হীরুর বিরুদ্ধে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ আনে চন্দ্রনাথ। নিজেকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে দেখতে সে এতটাই ভালোবাসে যে বাড়িতে বসে নিজের মতো করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফলও তৈরি করে চন্দ্রনাথ এবং সেখানে নিজের নম্বরের অনুপাতে বাকিদের ফলাফল ঠিক করে।

: চন্দ্রনাথের মধ্যে ঔদ্ধত্যের প্রকাশ ঘটে যখন সে স্কুলকে দ্বিতীয় পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করে চিঠি দেয় এবং স্কুলের সঙ্গে সব সম্পর্ক চুকিয়ে দেওয়ার কথা বলে। এমনকি প্রধান শিক্ষককে উদ্দেশ্য করে ‘গুরুদক্ষিণার যুগ আর নেই' বলার মধ্যে এই ঔদ্ধত্যেরই চরম প্রকাশ ঘটে। এক্ষেত্রে নিজের দাদার নির্দেশও সে শুধু অমান্য করেনি, দাদার সঙ্গে সম্পর্কের বিচ্ছেদও ঘটায়। চন্দ্রনাথ এই দ্বিতীয় পুরস্কার গ্রহণ করাকে তার ‘ডিগনিটি’র অমর্যাদা বলে উল্লেখ করেছে। তাই হীরুর কাকার বিশেষ পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাবকে তার ‘অপমানজনক' বলে মনে হয়েছে।

নিজস্ব অহংয়ের কারণেই হীরুর স্কলারশিপের বিষয়টিও চন্দ্রনাথ সহজভাবে নিতে পারেনি। হীরুর বাড়ির প্রীতিভোজে আমন্ত্রণ পেয়েও সে হাজির হয়নি বরং এই সামান্য কারণে অনুষ্ঠান করার প্রয়োজন ছিল না বলে চিঠি লিখে রেখে গেছে। সব মিলিয়ে অহংকার, আত্মমর্যাদা এবং আত্মকেন্দ্রিকতার প্রতীক হয়ে উঠেছে চন্দ্রনাথ। চন্দ্রনাথ তার চরিত্রের বিশিষ্টতায় কালপুরুষ নক্ষত্রের দীপ্তির মতো স্বতন্ত্র হয়ে উঠেছে, যাকে গল্পকথক শেষপর্যন্ত জীবনপথের নিঃসঙ্গযাত্রী হিসেবে কল্পনা করেছেন। 

প্রশ্ন : চন্দ্রনাথ'-কে সার্থক ছোটোগল্প বলা যায় কি না আলোচনা করো

উত্তর: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চন্দ্রনাথ’ ছোটোগল্প নয় এটি একটি উপন্যাসের অংশ। কিন্তু সীমিত আয়তনে এখানে গল্পপাঠের আনন্দ উপলব্ধি করা যায়। তিনটি কিশোর চরিত্র এবং অন্য কয়েকটি চরিত্র যেমন নিশানাথ, হেডমাস্টারমশাই, হীরুর কাকাকে নিয়ে যেভাবে কাহিনি সাজিয়েছেন লেখক সেখানে ঘটনার ঘনঘটা নেই, কিন্তু দ্বন্দ্ব আছে আর তারই সূত্রে গতিশীলতাও আছে। চরিত্রসৃষ্টির ক্ষেত্রে চন্দ্রনাথের একরোখা উদ্ধত স্বভাব কিংবা হীরুর বন্ধুত্বপূর্ণ মানসিকতা—সব মিলিয়েই বিষয়বস্তু আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। গল্পটিতে স্মৃতির সারণি বেয়ে বাস্তবকে হাজির করানো হয়েছে। সারকুলার রোডের সমাধিক্ষেত্র থেকে বেরিয়ে কথকের এই স্মৃতিবাহিত হওয়া কাহিনির স্বাদবৈচিত্র্য তৈরি করে দিয়েছে। গল্পশেষে চন্দ্রনাথের অজানার পথে চলে যাওয়ার সঙ্গে এই আবহ অত্যন্ত সংগতিপূর্ণ হয়েছে। মানবস্বভাব এবং মানবিক সম্পর্ককে অনবদ্য দক্ষতায় তুলে ধরেছেন লেখক। দ্বিতীয় হওয়ার পরে যেভাবে হীরুর নামে চন্দ্রনাথ অপবাদ দিয়েছে তা স্বার্থপর মানবসমাজের দৃষ্টান্ত হতে পারে। তৎসম শব্দের প্রচুর ব্যবহার, সাধু গদ্যভঙ্গি ইত্যাদির মধ্যে ইংরেজি বাক্যখণ্ডের মিশ্রণ গল্পাংশটিতে আলাদা মাত্রা এনেছে। চরিত্র এবং ঘটনার সঙ্গে মানানসই এই ভাষাপ্রয়োগ রচনাংশটির সার্থকতার কারণ।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ