নিরুদ্দেশ গল্প (প্রেমেন্দ্র মিত্র ) নিরুদ্দেশ গল্পের সাজেশন ২০২২ | নিরুদ্দেশ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর ২০২২



নিরুদ্দেশ গল্প ( প্রেমেন্দ্র মিত্র ) | বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর |  mcq প্রশ্ন ও উত্তর | নিরুদ্দেশ গল্পের সাজেশন | নিরুদ্দেশ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তরসহ | নবম শ্রেণী বাংলা নিরুদ্দেশ গল্পের সাজেশন



1. আমরা কি এতদিন রামযাত্রা বার করেছি।”—যে একথা বলেছিল, সে হল—

A) খবরের কাগজের লোক 

B) নায়েবমশাই 

C) থানার দারোগা 

D) বাবা

2. বাবা একটু হতভম্ব হয়ে একবার অসহায়ভাবে চারিদিকে তাকান।”— বাবা হতভম্ব হয়ে চারিদিকে তাকান কারণ— 

A) খবরের কাগজের অফিসে কোথায় কী করতে হয় তা তিনি বোঝেন না। 

B) একটি প্রশ্ন করেই তিনি নিদারুণ ব্যঙ্গে বিদ্ধ হয়েছেন

C) চেনা-পরিচিত কাউকেই দেখতে পাননি 

D) তিনি ভুল করে অন্য অফিসে পৌঁছে গেছেন

3. “ও বুঝেছি,...... বক্তা যা বুঝেছেন তা হল—

A) উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বিজ্ঞাপনের কপি লিখে আনেননি

B) উদ্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে কাগজ-কলম নেই।

C) উদ্দিষ্ট ব্যক্তির ছেলে নিরুদ্দেশ 

D) অফিসের অন্য এক কর্মচারীর কাছে অপমানিত হওয়ার যন্ত্রণা তিনি ভুলতে পারছেন না

4. আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন।”–বন্ধা যে বিষয়ে উদ্দিষ্ট ব্যক্তিকে নিশ্চিন্ত থাকতে বলেছে, তা হল

A) ছেলে অবিলম্বে ফিরে আসবে

B) তাঁর গিন্নি অবিলম্বে অনশন ত্যাগ করবেন

C) বিজ্ঞাপন এমনভাবে লেখা হবে যে তাঁর ছেলে সেটি পড়েই কেঁদে ভাসাবে

D) বিজ্ঞাপন বেরোনোর আগেই ছেলেটি ঘরে ফিরে যাবে

5. সে বাড়িতে থাকতে আসেনি।”— তবে সে কেন এসেছে?

A) বন্ধুদের ঠিকানা লেখা খাতাটা নিয়ে যেতে

B) শেষবারের মতো মায়ের সঙ্গে দেখা করে যেতে 

C) চলে যাবার আগে তার গোটাকতক বই নিয়ে যেতে

D) তার সব জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়ে যেতে

6. “অমনি কুলাঙ্গার তুই তো হয়েছিস।”— মা তাঁর ছেলেকে 'কুলাঙ্গার' বলেছেন, কারণ—

A) নিরুদ্দেশে বেরিয়ে ছেলেটি বংশের মুখে কালি দিয়েছে

B) মা-বাবা কারুর কথা চিন্তা করেনি

C) বারংবার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে

D) মা-বাবার সঙ্গে প্রতিনিয়ত ঝগড়া-বিবাদ করেছে


নিরুদ্দেশ গল্প ( প্রেমেন্দ্র মিত্র ) | অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর | সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর | নিরুদ্দেশ গল্পের সাজেশন | নিরুদ্দেশ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তরসহ


1. দিনটা ভারী বিশ্রী।”— দিনটা ‘বিশ্রী’ কেন?

উত্তর: শীতের দিন হলেও বাদলার কারণে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন এবং পৃথিবী ম্লান হয়ে উঠেছে। তাই দিনটা এত বিশ্রী।

2. সোমেশ হঠাৎ এসে পড়ায় কথকের কী সুবিধা হয়েছিল?

উত্তর : সোমেশ হঠাৎ এসে পড়ায় কথকের দুপুর কাটানোর সুবিধা হয়েছিল।

3.একটা আশ্চর্য ব্যাপার দেখেছ?”— 'আশ্চর্য ব্যাপার'টি কী ছিল ?

উত্তর: আশ্চর্য বিষয়টি ছিল খবরের কাগজে একসঙ্গে সাত সাতটা নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপন বেরোনো। 

4. কাগজে সাতটি বিজ্ঞাপনের কথা শুনে সোমেশের প্রতিক্রিয়া কী ছিল ?

উত্তর: বিজ্ঞাপনের কথা শুনে সোমেশ কোনো কৌতূহল না দেখিয়ে উদাসীনভাবে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে থাকেন।

 5. আমার হাসি পায়।” –কীসে বক্তা হাসি পাওয়ার কথা বলেছেন ?

উত্তর:। কথক বলেছেন যে কাগজে ‘নিরুদ্দেশ'-এর বিজ্ঞাপনগুলো দেখলে তাঁর হাসি পায়।

6. নিরুদ্দেশ' গল্পে ছেলের পীড়াপিড়িতে মা কী করেছিলেন ?

উত্তর: নিরুদ্দেশ গল্পে' ছেলের পীড়াপিড়িতে মা লুকোনো পুঁজি থেকে টাকা বের করে তাকে দিয়েছিলেন।

7. নিরুদ্দেশ' গল্পে বাবা তাঁর থিয়েটার দেখতে যাওয়া ছেলে বিরলে কী করবেন বলেছেন ?

উত্তর :'নিরুদ্দেশ' গল্পে বাবা তাঁর থিয়েটার দেখে ফেরা, ছেলেকে বাড়ি থেকে বের করে দেবেন বলেছেন। 

8. বাবা ছেলেকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বললে মা কী বলেছিলেন?

উত্তরঃ বাবা ছেলেকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বললে মা বলেছিলেন যে, খাওয়াদাওয়ার সময়ে এসব বলা উচিত হয়নি।

9. ছেলে নিরুদ্দেশে চলে যাওয়ার পরে মা-র কী অবস্থা হয় ? 

উত্তরঃ ছেলে নিরুদ্দেশে চলে যাওয়ার পরে মা খাওয়া বন্ধ করে দেন এবং বিছানা থেকে ওঠেন না।

10. সন্ধ্যাবেলা অফিস থেকে ফিরে এসে দেখেন অবস্থা গুরুতর।” –এই গুরুতর অবস্থাটি কী ছিল?

উত্তর: ছেলের নিরুদ্দেশের কারণে মা শয্যা ছাড়বেন না পণ করেছিলেন। ছেলে ফেরেনি তাই অবস্থা গুরুতর হয়ে উঠেছিল।

11. বাবা ছেলের খোঁজ পাওয়ার জন্য কী করতে গিয়েছিলেন ? 

উত্তর: বাবা ছেলের খোঁজ পাওয়ার জন্য খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দিতে গিয়েছিলেন।

12. বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য নিরুদ্দিষ্ট ছেলেটির বাবার কাছে কী কী জানতে চাওয়া হয়েছিল ?

উত্তর: নিরুদ্দিষ্ট ছেলেটির বাবার কাছে স্পেসের পরিমাপ ও বিজ্ঞাপনের কপি এনেছেন কি না জানতে চাওয়া হয়েছিল।

13. নিরুদ্দেশ-এর বিজ্ঞাপনে বাবা কী লিখতে চেয়েছিলেন ? 

উত্তর: নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপনে বাবা ছেলেকে ফিরে আসার আবেদন জানাতে চেয়েছিলেন।

14. ছেলের নিরুদ্দেশ-এর বিজ্ঞাপন দেওয়ার সময়ে বাবা সব থেকে বেশি কী নিয়ে চিন্তিত ছিলেন।

উত্তর: বিজ্ঞাপন দেওয়ার সময়ে নিরুদ্দিষ্ট ছেলেটির মায়ের জলগ্রহণ না করায় বিষয়টি নিয়েই তার বাবা বেশি। চিন্তিত ছিলেন। 

15. ছেলেটি বাড়িতে ফিরে এসেছিল কেন?

উত্তর : ছেলেটি তার গোটাকতক বই নিয়ে যাওয়ার জন্য বাড়িতে ফিরে এসেছিল।

16. অত আদর ভালো নয়!”— কে কাকে বলেছেন?

উত্তর : প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত 'নিরুদ্দেশ' গল্পে বাড়ি ছেড়ে গিয়ে ফিরে আসা ছেলের মা তার বাবাকে প্রশ্নোদৃত কথাটি বলেছেন।


নিরুদ্দেশ গল্প ( প্রেমেন্দ্র মিত্র ) | মধ্যমমানের প্রশ্ন ও উত্তর | ৫ নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর | নিরুদ্দেশ গল্পের সাজেশন | নিরুদ্দেশ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তরসহ |নবম শ্রেণী বাংলা নিরুদ্দেশ গল্পের সাজেশন


আরোও পড়ুন "_ আবহমান কবিতা ( নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী) প্রশ্নোত্তর ২০২২ | class 9th bengali poem abohoman suggestion  

 

1. বাইরের অসাড়তা যেন আমাদের মনের উপরও চাপিয়া | ধরিয়াছে।”— মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ' গল্পটি শুরু হয়েছে শীতের একটা বাদলা দুপুরে। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ আর ম্লান পৃথিবীকে তখন মনে হচ্ছে নিশ্চল, প্রাণহীন। এমন সময় কথকের বন্ধু সোমেশের আগমন ঘটে। খবরের কাগজে একসঙ্গে সাতটা নিরুদ্দেশের সংবাদ বেরিয়েছে শুনেও অদ্ভুতরকম নির্লিপ্ত থাকেন তিনি। স্তব্ধ ঘরে শুধু সিগারেটের ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাক খেতে থাকে। লেখকের মনে হয়, ঘর আর বাইরের স্তব্ধ পরিবেশ যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। 

2. সুতরাং তিনি জেনে শুনে মিথ্যে আর বলতে পারেন - কে কেন মিথ্যে বলতে পারেন না ?

উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'নিরুদ্দেশ' গল্পের প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে জনৈকা মার মিথ্যে না বলতে পারার কথা বলা হয়েছে। সংবাদপত্রের নিরুদ্দেশ-এর বিজ্ঞাপনসূত্রে কথক বলেছেন যে, ধরা যাক কোনো ছেলে মাঝেমধ্যেই রাত করে থিয়েটার দেখে বাড়ি ফেরে। এরকম এক রাতে খেতে বসে বাবা খোঁচা দিয়ে মা র কাছে ‘গুণধর পুত্র’টির খবর জানতে চান। যেহেতু মা নিজেই ছেলের পীড়াপিড়িতে লুকোনো পুঁজি থেকে তাকে টাকা দিয়েছেন, তাই তিনি মিথ্যে বলতে পারেন না, চুপ করে থাকেন।

3. এই মৌখিক আস্ফালনেই হয়তো ব্যাপারটা শেষ হতে পারত।”—মৌখিক আস্ফালন কী ছিল? সেখানেই কি ব্যাপারটা শেষ হয়েছিল ?

উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ' গল্পে ছেলে গভীর রাতেও বাড়ি না ফেরায় বাবার প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করতে গিয়ে কথক একথা বলেন। আগের বছর ফেল করা ছেলে এবারেও যে ভালো ফল করবে না এই চিন্তায় ক্রুদ্ধ বাবা বলেন যে ‘নবাবপুত্তুর' ছেলে তাঁর অর্থের অপচয় করছে। তিনি ছেলেকে তাড়িয়ে দেওয়ার কথাও বলেন। চেহারার ভদ্রলোকটি ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেন যে তাঁদের খবরগুলো বুঝি ছেলেটির বাবার পছন্দ হচ্ছে না। একইসঙ্গে প্রশ্নোদ্ধৃত মন্তব্যটিও করেন তিনি।

4. এই বিজ্ঞাপনের পেছনে অনেক সত্যকার ট্র্যাজিডি থাকে।”— মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'নিরুদ্দেশ' গল্পে কথক খবরের কাগজের নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপনের প্রসঙ্গে বলেন যে এই নিরুদ্দিষ্টরা অনেক সময়ই তাৎক্ষণিক কারণে বাড়ি ছাড়ে, তারপরে কিছুদিন বাদে বাড়ি ফিরেও আসে। কিন্তু বন্ধু সোমেশের মনে হয় বিষয়টি এত সহজ নয়। বহু নিরুদ্দেশের পিছনেই থাকে জীবন থেকে চিরকালের মতো হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা। সেসব ক্ষেত্রে ফিরে আসা সেখানে সম্ভব হয় না, বা ফিরে আসার পথ বন্ধ হয়ে যায়।

5. যেন কান পাতলে কাতর আর্তনাদ শোনা যাবে।” মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো 

উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'নিরুদ্দেশ' গল্পে পুরোনো খবরের কাগজে বহুদিন ধরে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞাপনের কথা রয়েছে। বিজ্ঞাপনটি নিরুদ্দেশের। একজন মা কাতরভাবে ছেলেকে ফিরে আসার জন্য অনুরোধ করেছেন। সেখানে অস্পষ্ট আড়ষ্ট ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে মাতৃহৃদয়ের আকুলতা। একসময়ে সেই আকুলতা মিলিয়ে যায়। এরপর সংবাদপত্রের পৃষ্ঠায় ভেসে ওঠে পিতার কম্পিত, ধীর এবং শান্ত স্বর— মার অসুস্থতার কথা জানিয়ে যেখানে ছেলেকে ফিরে আসতে বলা হয়। এইসব অনুরোধ, আবেদনই আর্তনাদের মতো শোনায়।

6. পুরস্কারের পরিমাণ ক্রমশই বাড়াতে লাগল খবরের কাগজের পাতায়।” – মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর:  প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'নিরুদ্দেশ' গল্পে শোভন বাড়ি ছাড়ার পরে তাকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে দিনের পরে দিন খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন বেরোয়। প্রথমে মা-র কাতর অনুনয় এরপর বাবার ফিরে আসার আহ্বান সবই ব্যর্থ হয়ে যায়। তখন চেহারা বয়স ইত্যাদির সাধারণ একটা বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়, সন্ধান দিতে পারলে পুরস্কার দেওয়ার কথাও থাকে। কিন্তু সন্ধান না আসায় পুরস্কারের পরিমাণও ক্রমেই বেড়ে যেতে থাকে। 

7. তার ভেতরই সে পেয়েছে মুক্তির স্বাদ।” –কে কীভাবে মুক্তির' স্বাদ পেয়েছিল? 

উত্তর : প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত 'নিরুদ্দেশ' পক্ষ থেকে নেওয়া প্রশ্নোদৃত উদ্ধৃতিটিতে ষোলো-সতেরো বছরের একটি নিরুদ্দিষ্ট ছেলে শোভনের কথা বলা হয়েছে।


নিরুদ্দেশ গল্প ( প্রেমেন্দ্র মিত্র ) | রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর |  বড় প্রশ্ন ও উত্তর | নিরুদ্দেশ গল্পের সাজেশন | নিরুদ্দেশ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তরসহ | নবম শ্রেণী বাংলা নিরুদ্দেশ গল্পের সাজেশন


প্রশ্ন : কতটা রাগ দেখানো উচিত ঠিক করতে না পেরে বলার মাত্রাটা একটু বেশি হয়ে পড়ে।”— মন্তব্যটির প্রসঙ্গ উল্লেখ করো। বলার মাত্রা বেশি হওয়ায় কী ঘটনা ঘটেছিল? 

উত্তর : প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'নিরুদ্দেশ' গল্পে খবরের কাগজের নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপনসূত্রে কথক একটি ছেলের নিখোঁজ হওয়ার কাহিনি বন্ধু সোমেশকে বলেন। সেই কল্পিত কাহিনিতে একটি ছেলে গভীর রাতেও বাড়ি না ফেরায় বাবা মায়ের কাছে তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটতে থাকে। ছেলে যেহেতু মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বেরিয়েছে, তাই মাকে চুপ করে থাকতে হয়। ক্ষুখ বাবা তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে ছেলে গতবছর ফেল করেছে, এবারেও ভালো কিছু হওয়ার সম্ভাবনা কম। তীব্র বিরক্তির সঙ্গে তিনি বলেন, “পয়সাগুলো আমার খোলামকুচি কিনা, তাই নবাবপুত্ত্বর যা খুশি তাই করছেন।” বাড়ি ফিরলে ছেলেকে দূর করে দেওয়ার কথাও তিনি জানিয়ে রাখেন। বাবার এই ক্ষোভ মৌখিক আস্ফালনেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারত, কিন্তু তা হয় না কারণ সেই সময় ছেলে বাড়ি ঢোকে। রাগের ঝোঁক তক্ষুণি বাবার পক্ষে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয় না। তা ছাড়া এত রাগ প্রকাশের পরে ছেলেকে সামনাসামনি কিছু না বলাটাও হাস্যকর হয়ে যেত—“নিজের কাছে মান রাখবার জন্যেও কিছু বলতে হয়।” কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে রাগের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়ে তিনি ছেলেকে বাড়ি থেকে বেরিয়েই যেতে বলেন। এই প্রসঙ্গেই মন্তব্যটি করা হয়েছে।

“এমন ছেলের আমার দরকার নেই— বেরিয়ে যা।” মাত্রাছাড়া ক্রোধের বশবর্তী থাকায় বাবার এই নির্দেশ শুনে অভিমানী ছেলে তক্ষুণি গৃহত্যাগ করে। খাওয়া-দাওয়ার সময়েই কঠোর কথা বলার জন্য মা বাবার কাছে অনুযোগ করেন। বাবা আবার বলেন যে, মায়ের আশকারাতেই সব হয়েছে। এই চাপান উতোরের মধ্যেই “ছেলে বিশাল পৃথিবীতে নিরুদ্দেশ যাত্রায় বেরিয়ে পড়ে।

প্রশ্ন : এ অশান্তির চেয়ে বনবাস ভালো।”— বক্তা কেন একথা বলেছিলেন? অশান্তি এড়াতে তিনি কী করেছিলেন ? 

উত্তর:, প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'নিরুদ্দেশ' গল্পে বেশি রাত করে বাড়ি ফেরায় ছেলেকে তার বাবা রেগে গিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। ছেলেও তৎক্ষণাৎ বেরিয়ে যায়। ছেলের শোকে মা সেই রাত থেকেই খাওয়া ছেড়ে দেন। বাবা তাঁকে সান্ত্বনা দিলেও কোনো লাভ হয় না। শীতের সারাটা রাত্রি ছেলে কীভাবে কাটিয়েছে, সে ঝোঁকের বশে কিছু অনর্থ ঘটিয়ে বসবে 

কি না ইত্যাদি ভেবে মা আকুল হয়ে পড়েন। পরদিন সন্ধ্যাবেলা অফিস থেকে ফিরে বাবা দেখেন যে ছেলে ফেরেনি আর তার মা বিছানা নিয়েছেন। এই ঘটনা পরিশ্রান্ত বাবার কাছে বিরক্তিকর মনে হয়। তখনই তিনি প্রশ্নোকৃত মন্তব্যটি করেন।

→ এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে বাবা চলে যান একেবারে খবরের কাগজের অফিসে। ইতস্তত ঘুরে এক ভদ্রলোককে বলেন যে কাগজে তিনি একটা খবর বের করতে চান। কাগজের কর্মচারীটি একথা শুনে তাঁকে ব্যঙ্গ করেন “আমরা কি এতদিন রামযাত্রা বার করেছি” বলে। শেষ অবধি বাবা তাঁকে বিজ্ঞাপন দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং জানান যে বিজ্ঞাপনে নিরুদ্দিষ্ট ছেলেকে ফিরে আসার অনুরোধ জানানো হবে। কাগজের কর্মচারীর কথামতো ছেলের নাম, পরিচয় ইত্যাদি লিখে দেন তিনি। তাঁর বিনীত অনুরোধ ছিল— “একটু ভালো করে লিখে দেবেন। ওর মা কাল থেকে জল গ্রহণ করেনি।” এরপর কাগজের কর্মচারীর কথায় আশ্বস্ত হয়ে তিনি বাড়ি ফেরেন।

প্রশ্ন : অধিকাংশ নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপনের ইতিহাসই এই”।— বিজ্ঞাপনের কোন ইতিহাসের কথা এখানে বলা হয়েছে নিজের ভাষায় লেখো ।

উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'নিরুদ্দেশ' গল্পে শীতের এক বাদলা দিনে দুপুরবেলা খবরের কাগজে প্রকাশিত নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপনের দিকে তাকিয়ে কথক নিরুদ্দেশের পিছনের ঘটনাকে নিজের মতো করে প্রকাশ করতে চেয়েছেন।

একটি ছেলে সম্ভবত থিয়েটার দেখার জন্য মাঝেমধ্যেই বেশি রাত করে বাড়ি ফেরায় তার বাবা ক্ষুব্ধ হন। আগের বছরে ফেল করা ছেলে যে এবারেও কিছু করতে পারবে না বাবা তা বুঝতে পারেন। ছেলে যে তাঁর অর্থের অপচয় করছে, রেগে গিয়ে সেটাও বলেন তিনি। তিনি ছেলেকে দূর করে দেওয়ার কথাও বলেন। এসময়েই ছেলের প্রবেশ ঘটে। রাগ চেপে রাখতে না পেরে ছেলেকে বেরিয়ে যেতে বলেন তিনি এবং ছেলেও তক্ষুণি বেরিয়ে যায়। ছেলে চলে যাওয়ার পরে মা খাওয়ার সময়ে রাগারাগি করার জন্য বাবার কাছে অনুযোগ করেন। বাবাও ছেলের এই অবস্থার জন্য মাকেই দায়ী করেন। এই চাপান-উতোরের মধ্যেই মা খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দেন। পরদিন অফিস থেকে ফিরে তাঁকে বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখে বাবা বিব্রত হয়ে পড়েন। তিনি চলে যান খবরের কাগজের অফিসে। বিজ্ঞাপনে ছেলের নাম, পরিচয় দিয়ে তাকে ফিরে আসার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু বাড়ি ফিরে বাবা দেখেন বিজ্ঞাপন বেরোনোর আগেই ছেলে এসে হাজির হয়েছে। তবে পাকাপাকি থাকার জন্য নয়, কয়েকটা বই নেওয়ার জন্য। এবারে ছেলেকে পেয়ে বাবা ও মার ভূমিকা অদ্ভুতভাবে পালটে যায়। মা ছেলেকে সামান্য বকুনির জন্য গৃহত্যাগের কারণে তিরস্কার করেন, তাকে 'কুলাঙ্গার' বলেও সম্বোধন করেন। কিন্তু বাবা তাঁকে বকাবকি করতে নিষেধ করেন। অধিকাংশ নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপনের ইতিহাসই এই বলে কথক মন্তব্য করেছেন।

প্রশ্ন : ফিরে আসারই ভয়ানক একটা ট্র্যাজিডির কথা আমি জানি।”—বক্তা কে? তিনি যে ঘটনার কথা বলেছেন তা | নিজের ভাষায় লেখো। 

উত্তরঃ প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'নিরুদ্দেশ' গল্পে প্রশ্নোদ্ধৃত মন্তব্যটির বক্তা গল্প কথকের বন্ধু সোমেশ।

→ পুরোনো খবরের কাগজের পাতায় দিনের পরে দিন। প্রকাশিত হয়েছিল একটি নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপন। সেই বিজ্ঞাপনটিতে প্রথমে ছিল ছেলেকে ফিরে আসার জন্য মায়ের কাতর অনুরোধ। তারপরে মায়ের শয্যাগত হওয়ার খবর জানিয়ে বাবার তরফ থেকে ফিরে আসার আহ্বান। বিজ্ঞাপনে ধীরে ধীরে কাতরতা বৃদ্ধি পায়, সেখানে শুধুই হতাশা আর হাহাকার। তারপরে, বিজ্ঞাপনে শোভনকে উদ্দেশ্য করে আর কিছু লেখা হত না। এরপর প্রকাশিত হয় একটি সাধারণ বিজ্ঞপ্তি—যেখানে চেহারা ও বয়সের বর্ণনা দিয়ে সন্ধান দিতে পারলে পুরস্কারের ঘোষণা করা হয়। শোভন নামের ছেলেটি জন্ম থেকেই নির্লিপ্ত। তাই কোনো অভিমান নিয়ে নয়, সে বাড়ি ছেড়েছিল সংসারে তার বিশেষ আকর্ষণ ছিল না বলে। বিজ্ঞাপনগুলো পড়লেও সে সেগুলিকে মনের মধ্যে জায়গা দেয়নি। কিন্তু বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে গেলে তার উদাসীন মন যে-কোনো কারণেই হোক বিচলিত হয়। দু-বছর পরে শোভন বাড়িতে ফিরে আসে। কিন্তু কর্মচারীরা তাকে চিনতে পারে না, বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেয়। এমনকি বৃদ্ধ খাজাশ্চিমশাইও তাকে চিনতে পারেন না। নিরুদ্দেশ বিজ্ঞাপন দেখে আসা সোমেশ ব'লে নিজেকে দাবি করা আরও দুজনের সঙ্গে তাকেও প্রতারক বলেই ভাবা হয়। তাদের কাছে তখন সোমেশের মৃত্যুসংবাদ পৌঁছে গেছে, তারা তা বিশ্বাসও করেছে। বৃদ্ধ বাবাও তাকে চিনতে পারেন না। কিন্তু শোভনের জন্য আরও বিস্ময় অপেক্ষা করছিল। এক সময় নায়েবমশাই তার হাতে নোটের তাড়া গুঁজে দিয়ে তাকে বলেন মৃত্যুপথযাত্রী মায়ের সামনে শোভনের ভূমিকায় অভিনয় করার জন্য। ফিরে আসা এভাবে ট্র্যাজিক হয়ে ওঠে শোভনের জন্য।

প্রশ্ন : “সকলের দৃষ্টিতে অবিশ্বাস।”—কাদের কথা বলা হয়েছে? এই অবিশ্বাসের কারণ আলোচনা করো ।

উত্তর: প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘নিরুদ্দেশ' গল্পের প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে শোভনের বাড়ির নায়েবমশাই ও অন্যান্য কর্মচারীদের কথা বলা হয়েছে।

:_ শোভন নিরুদ্দেশ হয়েছিল দু-বছর আগে। কাগজে মার অনুনয় বা বাবার কাতর আবেদনেও সে সাড়া দেয়নি। পুরস্কার ঘোষণার পরেই নানান জনের কাছ থেকে সাড়া আসতে শুরু করে। কিন্তু সত্যিকারের শোভন ফিরে আসার পরেও তাকে পুরস্কার প্রত্যাশীদেরই আর-একজন বলে বাড়ির কর্মচারীরা মনে করে। সেই কারণে তার বারবাড়িতে বসার ব্যবস্থা করা হয়। শোভন জোর করে বাড়ির ভেতরে যেতে চাইলে তাকে স্পষ্টই বলা হয়—“মিছিমিছি কেলেঙ্কারি করে লাভ নেই। তাতে ফল হবে না কিছু।” এমনকি শোভন তার ছোটোবেলার ফোটো দেখে চিনতে পারলেও তার বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয় না। নায়েবমশাই ছবির সঙ্গে শোভনের কিছু মিল পেলেও তাকে মনে করিয়ে দেন যে, আগে আরও দুজনের সঙ্গে এই মিল ছিল, এমনকি জঙুল পর্যন্ত। কিন্তু শুধু পুরস্কার প্রত্যাশীদের ভিড়, আর শোভনের দীর্ঘ অনুপস্থিতিই সবার মনে এই অবিশ্বাসকে তৈরি করেনি, ইতিমধ্যে পাওয়া শোভনের মৃত্যুসংবাদও এই অবিশ্বাসের বড়ো কারণ। খবর এসেছে যে সাতদিন আগে গাড়ি চাপা পড়ে শোভন মারা গিয়েছে। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং হাসপাতালসূত্রে এই ধারণা সমর্থিতও হয়েছে। এই কারণে শোভন বাড়ি ফিরে এলেও কেউ তাকে বিশ্বাস করতে চায়নি।

প্রশ্ন : আচ্ছন্নতা তার কাটল খানিক বাদে।”—এখানে কোন্ আচ্ছন্নতার কথা বলা হচ্ছে? তা কীভাবে কেটেছিল ? 

উত্তরঃ প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'নিরুদ্দেশ' গল্পে কাগজে বিজ্ঞাপন দেওয়া বন্ধ হয়ে গেলে কিছু একটা মনে করে শোভন বাড়ি ফিরে আসে। কিছুটা পালটে গেলেও বাড়ির কর্মচারীরা তাকে চিনতে পারবে না, এতটা শোভন ভাবেনি। “কাকে চান?” বাড়ির পুরোনো নায়েবমশায়ের এই প্রশ্নে প্রথমেই ধাক্কা লাগে শোভনের। সে বাড়ির ভিতরে যেতে চাইলেও তাকে বারবাড়িতে থাকতে বলা হয়। মায়ের শরীর কেমন আছে, কিছু হয়েছে কি না ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তরও দেওয়া হয় প্রায় এড়িয়ে যাওয়ার ভঙ্গিতে। শোভন ক্রুদ্ধ হয়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকতে চাইলে তাকে বলা হয়— “মিছিমিছি কেলেঙ্কারি করে লাভ নেই।” সে নিজের ছোটোবেলার ফোটো চিনতে পারলেও তাকে চলে যেতে বলা হয় এবং জানানো হয় যে, বাড়ির নিরুদ্দিষ্ট শোভন নামের ছেলেটি সাতদিন আগে দুর্ঘটনায় মারা গেছে। হতভম্ব শোভন বাবার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু তিনিও চিনতে পারেন না। তাকে। এই ঘটনাপ্রবাহই আচ্ছন্ন করে দেয় শোভনকে।

• শোভনের এই আচ্ছন্নতা কেটে যায় নায়েরমশাই-এর কথায়। তাঁর কণ্ঠস্বরে মিনতি ঝরে পড়ে। শোভনের হাতে একটা নোটের তাড়া ধরিয়ে দিয়ে নায়েব যা বলেন তার মমার্থ হল। বাড়ির কর্ত্রী মৃত্যুপথযাত্রী। তিনি ছেলের মৃত্যুসংবাদ শোনেননি। ছেলেকে একবার দেখার আশা নিয়ে তিনি বেঁচে আছেন। যেহেতু হারানো ছেলের সঙ্গে শোভনের সাদৃশ্য আছে, তাই তাকে একবার সেই হারানো ছেলে সেজে বৃদ্ধার সামনে দেখা দিতে হবে অর্থাৎ শোভনকেই শোভনের ভূমিকায় অভিনয় করতে হবে। এই অপ্রত্যাশিত প্রস্তাব মায়ের কাছে নকল ছেলে হয়ে হাজির হওয়া শোভনের সব আচ্ছন্নতা কাটিয়ে দেয়। 

প্রশ্ন : নিরুদ্দেশ' গল্পের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো।

উত্তরঃ প্রেমেন্দ্র মিত্রের 'নিরুদ্দেশ' গল্পে বিষয়ভিত্তিক নামকরণের রীতিকে গ্রহণ করা হলেও তা শেষপর্যন্ত ব্যঞ্জনাসমৃদ্ধ হয়েছে। গল্পের প্রথম অংশে শীতের বাদলা দুপুরে কথক তাঁর বন্ধু সোমেশের সঙ্গে কাগজে প্রকাশিত নিরুদ্দেশের বিজ্ঞাপন নিয়ে আলোচনা করতে চান। তিনি নির্দিষ্ট ঘটনা উল্লেখ করে বোঝাতে চান যে, নিরুদ্দেশ আসলে ঘটে অভিমানের কারণে। অভিমান মিটলেই নিরুদ্দিষ্ট ঘরে ফিরে আসে। কিন্তু এই গল্পে সোমেশের আকর্ষণ ছিল না। তার জীবন দিয়ে সে নিরুদ্দিষ্টের ট্র্যাজেডি বুঝতে পেরেছে, যদিও সেই কাহিনি আপাতভাবে কোনো এক শোভনের বলে সে বিবৃত করেছে। জন্ম থেকে নির্লিপ্ত শোভন নিরুদ্দিষ্ট হওয়ার পরে কাগজে অসংখ্য বিজ্ঞাপন বেরোয়। প্রথমদিকে মায়ের কাতর অনুনয়, তারপরে মায়ের অসুখের কথা জানিয়ে বাবার ফিরে আসার আবেদন প্রকাশিত হতে থাকে। দু-বছর চলার পরে বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়। তখনই কৌতূহলী শোভন বাড়ি ফেরে। কিন্তু ট্র্যাজেডি হল তখন কেউ তাকে চিনতে পারে না। কারণ, পুরস্কারের লোভে ইতিমধ্যে একাধিকজন এভাবেই শোভন বলে এসে দাবি জানিয়েছে। দ্বিতীয়ত, সাতদিন আগে সেখানে পৌঁছে গেছে শোভনের মৃত্যুর এক কাল্পনিক সংবাদ। শোভনের ট্র্যাজেডি ঘনীভূত হয়, যখন নায়েবমশাই শোভনকে টাকা দিয়ে বলেন যে মৃত্যুপথযাত্রী মায়ের কাছে শোভনকেই শোভনের ভূমিকায় অভিনয় করতে হবে। মিথ্যা এভাবে সত্যের জায়গা দখল করে নেয়। প্রকৃত শোভন চিরকালের জন্য বর্তমান থেকেও নিরুদ্দিষ্ট হয়ে যায় পরিজনদের কাছে। নিরুদ্দিষ্টের এই ট্র্যাজিক ব্যঞ্জনায় গল্পের নামকরণ ‘নিরুদ্দেশ' অত্যন্ত সার্থক হয়ে উঠেছে।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ