Type Here to Get Search Results !

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধের সকল প্রশ্ন ও উত্তর | Hariye Jawa Kali Kolom probondho - Nikhil Sarkar 2022



হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধ নিখিল সরকার | হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধের SAQ প্রশ্নোত্তর | অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | মাধ্যমিক বাংলা হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধের সাজেশন | 


1. শ্রীপান্থ কোন সাহিত্যিকের  ছদ্মনাম ?

উত্তর : শ্রীপান্থ হলো নিখিল সরকারের ছদ্মনাম ।

2. পার্থ হারিয়ে যাওয়া কালি কলম রচনাটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত? 

উত্তর : হারিয়ে যাওয়া কালি কলম রচনাটি নিখিল সরকার রচিত কালি আছে কাগজ নেই কলম আছে মন নেই গ্রন্থের অন্তর্গত ।

3. লেখে তিনজন ! এই তিনজন বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে ?

উত্তর : শ্রীপান্থরোচিত হারিয়ে যাওয়া কালি কলম রচনা ব্যবহৃত উদ্ধৃত অংশে তিনজন বলতে কালি কলম এবং মনকে বোঝানো হয়েছে। 

4. বাংলায় একটা কথা চালু ছিল ! কোন কথা চালু ছিল ?

উত্তর ; কালি নেই কলম নেই বলে আমি মুন্সি ।

5. বড়রা শিখিয়ে দিয়েছিল ! বড়রা কি শিখিয়েছিলেন ?

উত্তর : ছোটবেলায় কলম তৈরি করার সময় বড়রা শিখিয়েছিলেন বাসের কঞ্চির সূচালো মুখটা চিরে দিতে, তবে কালি একসঙ্গে না গুড়িয়ে ধীরে ধীরে পড়বে ।

6. গরুকে অক্ষর খাওয়ানো নাকি পাপ ! তাই লেখকরা শৈশবে কি করতেন?

উত্তর : শৈশবের লেখকরা মাস্টার মশায়ের ফেরত দেওয়া সেরা কোন কলা পাতার টুকরো গুলি পুকুরে ফেলে দিতেন । কারণ সে যুগে মনে করা হতো ওগুলো গরু খেলে অমঙ্গল হবে। 

7. লেখক এর জন্ম মিশরে হলে লেখক কি করতেন বলেছেন?

উত্তর : মিশরে জন্ম হলে লেখক নীল নদের তীর থেকে নলখাগড়া ভেঙে নিয়ে কলম তৈরি করতেন ।

8. প্রাচীন সুমেরীয়রা কিভাবে কলম বানাত ?

উত্তর : প্রাচীন সুমেরিওরা নীল নদের তীর থেকে নলখাগড়া ভেঙ্গে নিয়ে এসে সেটাকে ভোতা করে তুলি  বানিয়ে লিখতো ।

9. স্টাইলাস কি ?

উত্তর : ব্রোঞ্জের সরু কাঠি বা শলাকার পোষাকি নাম স্টাইলাস । প্রাচীন রমে কলম হিসেবে ব্রাঞ্চের শলাকা ব্যবহার করা হতো । 

10. খাগের কলমের ব্যবহার এখন কোন সময় দেখা যায়?

উত্তর : খাগের কলমের ব্যবহার এখন সরস্বতী পূজার সময় দেখা যায় ।

11. পালকের কলম এর ইংরেজি নাম কি?

উত্তর : পালকের কলম এর ইংরেজি নাম হল কুইল ।

12. দার্শনিক তাকেই বলে ! দার্শনিক কাকে বলা হয়? 

উত্তর : হারিয়ে যাওয়া কালি কলম রচনা কলম গুঁজে দুনিয়া খুঁজেন তাকেই দার্শনিক বলা হয় ।

13. ফাউন্টেন পেনের আবিষ্কারক কে ?

উত্তর : ফাউন্টেন পেনের আবিষ্কারক হলেন লুইস এডেল ওয়াটারম্যান ।

14. জন্ম নিল ফাউন্টেন পেন ! ফাউন্টেন পেনের জন্ম বৃত্তান্ত উল্লেখ কর ?

উত্তর : লুইস অ্যাকশন ওয়াটারম্যানের হাত ধরে ফাউন্টেন পেনের জন্ম হয়েছে । আদিতে এর নাম ছিল রিজাভার পেন । 

15. সোনার দোয়াত কলম যে সত্যিই হতো " তা লেখক কিভাবে জেনেছিলেন? 

উত্তর : হারিয়ে যাওয়া কালি কলম রচনা থেকে জানা যায় সোনার দাওয়াত করলাম যে সত্যি হতো তা লেখক জেনে ছিলেন শুভ ঠাকুরের দাওয়াতের সংগ্রহ দেখে ।

16. সমানি সম শীর্ষনি ঘনা নি বিরলানি চ !' বাংলা অর্থ কি?

উত্তর : শ্রীপান্ধ রচিত হারিয়ে যাওয়া কালি কলম রচনা অন্তর্গত থেকে ঘোষণা দিত উক্তিটির বাংলা অর্থ : সব অক্ষর সমান প্রতিটি ছাত্র সুশৃংখল, পরিছন্ন ।

17. কলম কে কিসের চেয়েও শক্তিধর বলা হয়েছে?

উত্তর : শ্রীপানন্ত রচিত হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধে কলমকে তলোয়ারের চেয়েও শক্তিধর বলা হয়েছে ।

18. হারিয়ে যাওয়া কালি কলমের বর্ণিত সবচেয়ে দামি কলমটির কত দাম?

উত্তর : শ্রী পান্থ রচিত হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধ বর্ণিত সবচেয়ে দামি কলমটির দাম আড়াই হাজার পাউন্ড । 

19. তুমি যদি আমাকে হত্যা করতে চাও, আচ্ছা, তবে তাই হোক ! কি প্রসঙ্গে লেখক এরূপ বলেছে ?

উত্তর : বাসের পেন, নিপ বেন, ছেড়ে লেখক বলপেন এর কাছে আত্মসমর্পণ করে আধুনিক অগ্রগতির কাছে নিজেকে সোপে দিয়েছেন । এই প্রসঙ্গেই লেখক এরূপ উক্তিটি করেছেন ।

20. সেই আঘাতের পরিণতি নাকি তার মৃত্যু ; কোন আঘাতের পরিণতিতে মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে?

উত্তর : বিখ্যাত লেখক ত্রিলোইকনাথ  মুখোপাধ্যায় মারা গিয়েছিলেন নিজের হাতের কলম হঠাৎ করে ও অসাবধানতাবশত বুকে ফুটে গিয়ে। এখানে কলমের চেয়ে আঘাতের পরিনিতিতে ত্রিলৈকনাথের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে ।


হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধ নিখিল সরকার | হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধের ব্যাখ্যাধর্মী প্রশ্নোত্তর |ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর | মাধ্যমিক বাংলা হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধের সাজেশন ২০২২


1. কথায় বলে—কালি কলম মন, লেখে তিন জন।”— উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : উৎস শ্রীপান্থ রচিত ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে স্বয়ং লেখক অতিপ্রচলিত উদ্ধৃত প্রবাদটি উল্লেখ করেছেন। প্রসঙ্গ: হারিয়ে যাওয়া কালি কলম সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়েই লেখকের এরূপ মনে হয়েছে। আলোচ্য প্রবন্ধে এই মন্তব্যটির একটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। তাৎপর্য: মানুষের মনের ভাব ও ভাবনা কলমের সাহায্যে কালির রেখায় সাদা কাগজের ওপর জীবন্তরূপ লাভ করে। সভ্যতার উষালগ্ন থেকেই মানুষ তার মনের কথাকে ভবিষ্যতের মানুষের জন্য রেখে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লেখার সামগ্রী ব্যবহার করে আসছে। এই পথ ধরেই কালি আর কলম এসেছে আমাদের সভ্য জগতে। কলম মানুষের আবেগকে প্রকাশ করে। তাকে হাতে নিয়ে মানুষ মনের নানা ভাবনাকে প্রকাশ্য করে তোলে। কলম হল তুলি, কালি হল রং আর মন হল শিল্পী। এই তিনের মিলনে মনের গোপনে জন্ম নেওয়া ভাবনা মূর্ত হয়ে ওঠে। এমনিভাবেই লেখা হয়েছে অজস্র গ্রন্থ। অর্থাৎ সাহিত্যের যে সর্বজনীন হয়ে ওঠা, তা কালি, কলম আর মন—এই তিনের মিলনের দ্বারা সম্ভব। কলমের সাহায্যে লেখার মাহাত্ম্যকে তুলে ধরতেই লেখকের এই মন্তব্যটির অবতারণা। 


2. সবাই এখানে লেখক। কিন্তু আমি ছাড়া করও হাতে কলম নেই।”—'এখানে' বলতে কোথাকার কথা বলা হয়েছে? লেখক হওয়া সত্ত্বেও কারও হাতে কলম নেই কেন ?

উত্তর : উদ্দিষ্ট স্থান: শ্রীপান্থের লেখা 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' রচনার উল্লিখিত অংশে ‘এখানে' বলতে যে সংবাদপত্রের অফিসে লেখক কাজ করতেন সেখানকার কথা বলা হয়েছে।

★ কলম না থাকার কারণ: সংবাদপত্রে অফিস আসলে ‘লেখালেখির’ অফিস। সবাই সেখানে লেখার কাজই করে থাকেন। কিন্তু 'কালি কলম মন, লেখে তিন জন'—এ কথা বলা হলেও নিজের কর্মক্ষেত্রে কলমের উপস্থিতি লেখক দেখতে পাচ্ছিলেন না। একমাত্র তিনি ছাড়া আর কেউই কলমের ব্যবহার করতেন না। কম্পিউটারই ছিল। সকলের অবলম্বন। সকলের সামনে ছিল চৌকো আয়নার মতো একটা কাচের পর্দা, তার নীচে একটা কি-বোর্ড। এই বোর্ডের প্রত্যেকটি বোতামে ছাপা আছে একটি হরফ। আর লেখকের সহকর্মীরা অনবরত তার সাহায্যে লিখে চলেছেন। মাঝে মাঝে লেখা থামিয়ে সেই পর্দার দিকে তাকাচ্ছেন। যা লেখা হয়ে গিয়েছে তা সেই পর্দায় দেখা যাচ্ছে। এ এক নতুন লেখালেখির পদ্ধতি। কলম সেখানে প্রয়োজনহীন। কম্পিউটারের এই ব্যবহার এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, কোনোদিন কলম না নিয়ে গেলে একটা কলম জোগাড় করাই সমস্যার হয়ে যেত । নতুন যুগের এই লেখার পদ্ধতিকে সময়ের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে গ্রহণ করে নেওয়াতে কলম অপ্রয়োজনীয় বস্তু হয়ে পড়েছে। 

3. আমরা কালিও তৈরি করতাম নিজেরাই।”— লেখকরা কীভাবে কালি তৈরি করতেন তা প্রবন্ধ অনুসরণে লেখো।

উত্তর : নিখিল সরকার ওরফে ‘শ্রীপান্থ’ রচিত 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধে উদ্ধৃতাংশটি ব্যবহৃত হয়েছে।

প্রচলিত ছড়া: আলোচ্য প্রবন্ধে লেখক তাঁর ছেলেবেলায় কালি তৈরি নিয়ে প্রচলিত ছড়ার কথা বলেছেন। ছড়াটি হল –“তিল ত্রিফলা সিমুল ছালা/ছাগ দুগ্ধে করি মেলা/ লৌহপাত্রে লোহায় ঘসি/ছিঁড়ে পত্র না ছাড়ে মসি।” উপকরণ: ছড়াটিতে তিল, ত্রিফলা, শিমুল গাছের ছাল, ছাগলের দুধ ইত্যাদি উপকরণের কথা আছে। এতগুলি উপকরণ জোগাড় করে কালি তৈরি করা খুব সহজ কাজ ছিল না। তাই লেখক অন্য সহজ পথ ধরেন। বিকল্প পদ্ধতি: লেখকের বাড়িতে কাঠের আগুনে রান্না হত । তাতে কড়াইয়ের তলায় প্রচুর কালি জমত। লাউ পাতা দিয়ে তা ঘষে তুলে, পাথরের বাটিতে জলে গুলে রাখা হত। যারা কালি তৈরিতে ওস্তাদ তারা এই কালো জলে হরীতকী ঘষত। কখনো-কখনো আতপ চাল ভেজে পুড়িয়ে এবং তা বেটে সেই জলে মেশানো হত। এইসব ভালো করে মিশিয়ে একটা খুন্ডির গোড়ার দিক পুড়িয়ে লাল করে সেই জলে স্পর্শ করালে তা টগবগ করে ফুটত। তারপর ন্যাকড়ায় ছেঁকে মাটির দোয়াতে ভরে নিলেই তৈরি হয়ে যেত কালি। 


4. পালকের কলম তো দূরস্থান, দোয়াতকলমই বা আজ কোথায়!”—পালকের কলম সম্পর্কে লেখক কী জানিয়েছেন? দোয়াতকলম প্রসঙ্গে লেখক কী বলেছেন?

উত্তর : পালকের কলম সম্পর্কে লেখকের বক্তব্য: আজকাল কলম এবং দোয়াতের ব্যবহার কমে যাওয়া প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে লেখক শ্রীপান্থ আলোচ্য মন্তব্যটি করেছেন।

পালকের কলমকে ইংরেজিতে বলা হয় কুইল। বাঁশের কলম, খাগের কলম চলে যাওয়ার পর একসময় পালকের কলমের আধিপত্য ছিল। পাখির পালক দিয়ে তৈরি হত এই কলম। লেখক আক্ষেপ করেছেন, “পালকের কলম দেখতে হলে পুরানো দিনের তৈলচিত্র কিংবা ফটোগ্রাফ ছাড়া গতি নেই।” ঊনবিংশ শতকের প্রথমার্ধেও পালকের কলমের প্রচলন ছিল। উইলিয়াম জোন্স বা স-মুনশি কেরি সাহেবের ছবিতে দেখা যায় পালকের কলম। মিশনারিরা এবং ইংরেজ সাহেবরা পালক কেটে কলম তৈরির জন্য পেনসিল শার্পনারের মতো এক প্রকারের যন্ত্রও বানিয়েছিলেন।

দোয়াতকলম প্রসঙ্গে লেখকের বক্তব্য: লেখক দোয়াত কলমের নানা বৈচিত্র্যের উল্লেখ করেছেন। কাচের,কাট গ্লাসের, পোর্সেলিনের, শ্বেতপাথরের, জেডের, পিতলের, এমনকি গোরুর শিং বা সোনার দোয়াতও আগে পাওয়া যেত। লেখক নিজে সুভো ঠাকুরের দোয়াতের সংগ্রহ দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন। এমনকি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে বয়স্করা আশীর্বাদ দিতেন—“তোমার সোনার দোয়াতকলম হোক।” সেই দোয়াতকলম আজ উধাও। কোনো কোনো অফিসে গিয়ে লেখক ছদ্মবেশী দোয়াত এবং কলম টেবিলে সাজানো দেখেছেন, আসলে এই পেন হল বল-পেন। 


হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধ নিখিল সরকার | হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধের রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর | বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন উত্তর | মাধ্যমিক বাংলা হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রবন্ধের সাজেশন ২০২২


প্রশ্ন : ফাউন্টেন পেন' বাংলায় কী নামে পরিচিত? নামটি কার দেওয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছে? ফাউন্টেন পেনের জন্ম ইতিহাস লেখো।

উত্তর : ফাউন্টেন পেনের বাংলা নাম: ফাউন্টেন পেনের বাংলা নাম ঝরনা কলম।

বাংলা নামকরণ: শ্রীপান্থ রচিত হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' রচনায় নামটি সম্ভবত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেওয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

জন্ম-ইতিহাস: পণ্ডিতদের মতে, কলমের দুনিয়ায় সত্যিকারের বিপ্লব ঘটিয়েছে ফাউন্টেন পেন। কিন্তু এর জন্ম ইতিহাসটি বেশ চমকপ্রদ। আবিষ্কারক; এর আবিষ্কারক লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান। তিনি এই নতুন ধরনের কলম তৈরি করে অফুরন্ত কালির ফোয়ারা খুলে দিয়েছিলেন। চুক্তিপত্র সই সেকালের আরও অনেক ব্যবসায়ীর মতো তিনিও দোয়াতকলম নিয়ে কাজে বের হতেন। একবার তিনি গিয়েছেন আর-একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে চুক্তিপত্র সই করতে। দলিল কিছুটা লেখা হয়েছে এমন সময় দোয়াত হঠাৎ উপুড় হয়ে কাগজে পড়ে গেল। ফলে বাধ্য হয়ে তিনি ছুটলেন কালির সন্ধানে। ফিরে এসে শোনেন, ইতিমধ্যে অন্য একজন তৎপর ব্যবসায়ী সইসাবুদ শেষ করে চুক্তিপত্র পাকা করে গেছেন। প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া। এই ঘটনায় বিমর্ষ ওয়াটারম্যান মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন, এর একটা বিহিত করতেই হবে। অর্থাৎ এমন একটা পদ্ধতির খোঁজ করতে হবে যেখানে কলমের সঙ্গে কালির দোয়াত নিয়ে ঘুরতে হবে না। তারপরই আবিষ্কার করলেন ফাউন্টেন পেন। নবযুগের প্রতিষ্ঠা: দোয়াতের যুগের অবসান ঘটিয়ে কালক্রমে এই ফাউন্টেন পেন লেখালেখির নবযুগের প্রতিষ্ঠা ঘটাল। 

প্রশ্ন : ওয়াটারম্যান কীভাবে কালির ফোয়ারা খুলে দিয়েছিলেন ?

উত্তর : কথামুখ: লুইস অ্যাডসন ওয়াটারম্যান ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। অন্যান্য ব্যবসায়ীর মতো তিনিও দোয়াতকলম নিয়ে কাজে বের হতেন। চুক্তিপত্র সই: একবার এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে চুক্তিপত্র সই করতে গিয়ে দোয়াত থেকে কালি ফেলে দিলেন সেই দলিলে। ফলে বাধ্য হয়ে তিনি শূন্য দোয়াতে কালি ভরতে ছুটলেন। কিন্তু ফিরে এসে শোনেন, ইতিমধ্যে আর-একজন ব্যবসায়ী এসে সেই চুক্তিপত্রে সই করে চুক্তি পাকা করে ফেলেছেন। বিকল্প পদ্ধতির খোঁজ: হতাশ ও বিমর্ষ ওয়াটারম্যান তখনই ঠিক করলেন, তিনি এমন একটা পদ্ধতির খোঁজ করবেন যেখানে কলমের সঙ্গে কালির দোয়াত নিয়ে ঘুরতে হবে না। এইভাবেই জন্ম নিল ফাউন্টেন পেন। রিজার্ভার পেন: ফাউন্টেন পেনের আগের নাম রিজার্ভার পেন। ওয়াটারম্যান তাকেই উন্নত করে তৈরি করেছিলেন ফাউন্টেন পেন। কলম হিসেবে ফাউন্টেন পেনের বিরাট প্রসার ঘটে। হরেক রকম নিব ও কোম্পানি: একটি বিজ্ঞাপনে লেখক দেখেছিলেন তাঁদের তহবিলে নাকি রয়েছে সাতশোরকম নিব। দোকানে গিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির নাম লেখক শুনেছিলেন—পার্কার, শেফার্ড, সোয়ান ইত্যাদি। লেখক উল্লেখ করেছেন, তিনি যখন কলেজে পড়তেন, তখন তাঁর সব বন্ধুর পকেটেই ছিল ফাউন্টেন পেন। শেষকথা: সুতরাং, ওয়াটারম্যান তাঁর আবিষ্কারের পর সত্যিই যেন কালির ফোয়ারা খুলে দিয়েছিলেন। 

প্রশ্ন : কলমকে বলা হয় তলোয়ারের চেয়েও শক্তিধর।”— বিভিন্ন প্রকার কলমের পরিচয় দিয়ে লেখকের এই মন্তব্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর বিভিন্ন প্রকার কলমের পরিচয়: 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' রচনায় শ্রীপান্থ কলম এবং লেখালেখির বিবর্তনের কাহিনি উল্লেখ করেছেন। এই প্রসঙ্গেই তিনি বিভিন্ন রকম কলমের কথা বলেছেন। আদিপর্বের কলম: একসময় কলম তৈরি হত বাঁশের সরু কঞ্চি দিয়ে। তারপরে খাগের কলম, পশুর হাড়ের কলম, পাখির পালকের কলম, ব্রোঞ্জের কলম, তুলির কলম ইত্যাদির প্রচলন হয়। ফাউন্টেন পেন: তারপরে এল ফাউন্টেন পেন। ওয়াটারম্যানের এই আবিষ্কার কলমের দুনিয়ায় বিপ্লব এনে দিল। কালিতে ডুবিয়ে লেখা কলমগুলির যুগ শেষ হল। সস্তা, দামি নানারকম ফাউন্টেন পেন বাজার দখল করে নিল। পাইলট, পার্কার, শেফার্ড, ওয়াটারম্যান, সোয়ান এরকম নানা ফাউন্টেন পেন বাজারে এল। সেইসব পেনের রকমারি ও আকর্ষণীয় নিব ও হ্যান্ডেল ছিল। প্ল্যাটিনাম, সোনা ইত্যাদি দিয়েও অভিজাতদের জন্য ফাউন্টেন পেন তৈরি হত। তারপর ফাউন্টেন পেনের পরিবর্তে বাজারে এল বল-পেন। কলম তখন আরও সস্তা ও সহজলভ্য হয়ে উঠল। লেখকের মন্তব্য: “কলম তরোয়ালের চেয়েও শক্তিধর”— লোকসমাজে প্রচলিত এই কথাটিকে প্রথমে সাহিত্যে ব্যবহার করেছিলেন ইংরেজ নাট্যকার এডওয়ার্ড বুলওয়ার-লিটন তাঁর Richelieu; or the Conspiracy নাটকে। এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দেয়, যুদ্ধবাজ এবং অস্ত্রনির্ভর মানুষদের চেয়ে কবি-সাহিত্যিকদের ক্ষমতা অনেক বেশি। কলমের এই ক্ষমতার অনুষঙ্গ হিসেবেই সম্ভবত ফাউন্টেন পেনে ‘ব্যারেল' ‘কার্টিজ' ইত্যাদি শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। একজন শাসক যুদ্ধের দ্বারা ভূখণ্ড জিতে নিলেও, মানুষের মন জিততে পারেন না। অন্যদিকে লেখক জিতে নেন মানুষের মন। প্রাবন্ধিক উল্লেখ করেছেন, ইতিহাসে অনেক পালকের কলমধারীকে অস্ত্র হাতেও লড়াই করতে হয়েছে। তবে প্রশ্নে উদ্ধৃত অংশটির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য হল— তলোয়ার যে কাজ করতে পারে না, কলম তা পারে। আর সেই কাজ হল মানবজীবনকে সুন্দরতর করে তোলা।


প্রশ্ন : হারিয়ে যাওয়া কালি কলম রচনাটির নামকরণের সার্থকতা বিচার কর 

উত্তর : সাহিত্যের নামকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। রচয়িতার অভিপ্রায় রচনাটির নামের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়। নামকরণ সাধারণত চরিত্রধর্মী, বিষয়ভিত্তিক বা ব্যঞ্জনাধর্মী হয়ে থাকে। আমাদের পাঠ্য হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' প্রবন্ধটির নামকরণ কতদূর সার্থক, তা আলোচনাযোগ্য।

কালি-কলম-মন, লেখে তিন জন—অর্থাৎ, প্রাচীন কাল থেকেই মনের সঙ্গে কালি এবং কলমের সম্পর্ক। সময় এগিয়ে চলেছে নদীর স্রোতের মতো। বহমানতার যুগে মানুষ ক্রমশ যন্ত্রকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। এর ফলেই মানুষ মনের সঙ্গে যুক্ত থাকা ছোটো ছোটো সামগ্রী হারাতে বসেছে। লেখক তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা দিয়েই বলেছেন যে, তাঁর অফিসে সবাই কম্পিউটার ব্যবহারে পারদর্শী। একমাত্র তিনিই কলম ব্যবহার ছাড়তে পারেননি। এর ফলে “একদিন যদি কোনও কারণে কলম নিয়ে যেতে ভুলে যাই তবেই বিপদ। কলম! কারও সঙ্গে কলম নেই।” এই বিলাপ থেকেই স্পষ্ট যে কলম হারিয়ে যেতে বসেছে। শৈশবে লেখকরা যেভাবে বাঁশের কলম তৈরি করে ব্যবহার করেছেন এবং কড়াইয়ের নীচের কালি লাউ পাতা দিয়ে ঘষে তুলে জলে গুলে যেভাবে কালি তৈরি করেছেন তা এখন স্মৃতির বিষয়। ফাউন্টেন পেন আসার পর কলম হয়ে ওঠে সস্তা এবং সবার প্রিয়। ক্রমশ ফাউন্টেন পেনের আধিপত্যকে হটিয়ে দিয়ে বাজার দখল করে বল-পেন। ইতিহাসের পাতায় চলে যায় বাঁশের পেন, খাগের পেন, পালকের পেন প্রভৃতি। হাতে তৈরি কালি, সুলেখা কালি, কালি শুকানোর ব্লটিং পেপার সব উধাও হয়ে যেতে থাকে। আক্ষেপের সুরে তাই লেখক বলেছেন, “আশ্চর্য, সবই আজ অবলুপ্তির পথে। কম্পিউটার তাদের জাদুঘরে পাঠাবে বলে যেন প্রতিজ্ঞা করেছে।” তাঁর আক্ষেপ বিষাদে পরিণত হয়েছে, কারণ তিনিও জানেন যে আধুনিকতার কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে হবে। তবুও শৈশবের সেই কালিকলম হারিয়ে যাওয়াকে তিনি মানতে পারেননি। তাই বিষয়ের সঙ্গে নামটি সাযুজ্যপূর্ণ এবং সংগতি লাভ করেছে। বিষধর্মী নামকরণ হিসেবে রচনাংশটির নামটি তাই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ও সার্থক হয়েছে।

Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ