জ্ঞানচক্ষু গল্প ( আশাপূর্ণা দেবী ) ২০২২ | দশম শ্রেনী বাংলা প্রথম অধ্যায় জ্ঞানচক্ষু গল্প সাজেশন | জ্ঞানচক্ষু গল্পের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর



আমার ব্লগে আসার জন্য সবাইকে জানায় ধন্যবাদ, আমি akhtar , ও আমার ব্লগ indianews23 , তোমরা/আপনারা এই ব্লগে পড়াশোনা ( education) , খবর (news) , টিপস এন্ড ট্রিকস এর আপডেট প্রতিনিয়ত পেতে থাকবে/থাকবেন । এছাড়া আমাদের একটা নির্দিষ্ট ফেসবুক গ্রুপ রয়েছে : bangla news যেখানে সকল খবর এর আপডেট দেয়া হয় , চাইলে তোমরা/আপনারা যুক্ত হতে পারো/পারেন : তো আজকের পোস্ট বা আর্টিকেল হলো পড়াশোনা বিষয়ক , যেখানে দশম শ্রেনীর বাংলা বিষয়ের প্রথম অধ্যায় জ্ঞানচক্ষু গল্প (আশাপূর্ণা দেবী) থেকে সাজেশন দেয়া হয়েছে , এই পোস্ট বা আর্টিকেল থেকে তোমরা সকল গুরত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর সহ পাবে যা তোমাদের madhyamik ( মাধ্যমিক পরীক্ষায় আসার সম্ভাবনা আছে ।   

 জ্ঞানচক্ষু গল্প বহুবিকল্প ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর

জ্ঞানচক্ষু গল্প | লেখিকা আশাপূর্ণা দেবী | বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর | mcq প্রশ্নোত্তর | দশম শ্রেণী বাংলা প্রথম অধ্যায় সাজেশন ২০২২ 


1. কাকে দেখে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেলো ? 

A. দিদিকে

B. নতুন মেসোমশাই (উত্তর)

C. বাবাকে

D. নতুন পিসেমশাই 

2. নতুন মেসোমশাই ছিলেন :- 

A. গায়ক

B. চিকিৎসক

C. লেখক (উত্তর)

D. বই প্রকাশক 

3. ছোটো মাসি সেই দিকে ধাবিত হয় - ছোটো মাসি কোন দিকে ধাবিত হয় ?

A. রান্নাঘরের দিকে

B. ছোটো মেসোর দিকে (উত্তর)

C. ছাদের দিকে

D. তপনের দিকে 

4. রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই | এখানে জহুরি কে : 

A. তপনের বাবা

B. তপনের মা

C. তপনের মেসো (উত্তর)

D. তপনের মাসি 

5. তপনের লিখা গল্পটি তার মেসোকে কে দিয়েছিল ;

A. বরমাসি 

B. বাবা 

C. মা

D. ছোটো মাসি (উত্তর) 

6. মেসোর উপযুক্ত কাজটা কি ছিল - 

A. তপনের গল্পটা ছাপিয়ে দেওয়া

B. তপনকে লেখায় উৎসাহ দেয়া ।

C. তপনকে বকাবকি করা

D. তপনকে গল্পঃ লিখা শিখিয়ে দেয়া

7. তপনের মেসোমশাই কোন পত্রিকার সম্পাদক কে চিনতেন ?

A. আনন্দমেলা

B. সন্ধ্যা তারা ( উত্তর ) 

C. শুকতারা

D. দেশ 

8. তপনের লেখা গল্পটি নিয়ে কে চলে গিয়েছিলেন? –

ক) তপনের মেসোমশাই (উত্তর)

খ) তপনের ছোটোমাসি 

গ) তপনের মা 

ঘ) তপনের বাবা

9. তপন বিয়েবাড়িতে কী নিয়ে এসেছিল ? – 

ক) ব্যাট ও বল 

খ) গল্পের বই 

গ) গানের খাতা 

ঘ) হোমটাস্কের খাতা (উত্তর)

10. তপন তার গল্পটা লিখেছিল- 

ক) দুপুরবেলা (উত্তর)

খ) সন্ধেবেলা 

গ) বিকেলবেলা 

ঘ) গভীর রাতে

11. তপনের চিরকালের বন্ধু ছিল- 

ক) ছোটোমেসো 

খ) তপনের মা 

গ) ছোটোমামা 

ঘ) ছোটোমাসি (উত্তর)

12. তপনের ছোটোমাসি তার থেকে কত বছরের বড়ো ছিলেন? – 

ক) আট (উত্তর)

খ) ছয় 

গ) সাত 

ঘ) দশ 

13. “ছুটি ফুরিয়ে এসেছে।”— ছুটিটি ছিল- 

ক) পুজোর 

খ) গরমের 

গ) বড়োদিনের 

ঘ) পরীক্ষা প্রস্তুতির

14. বাড়িতে তপনের নাম হয়েছিল

ক) কথাশিল্পী, গল্পকার

খ) কবি, লেখক

গ) কবি, সাহিত্যিক, কথাশিল্পী

ঘ) গল্পকার, লেখক 

15. তপন তার লেখা গল্পটা প্রথম শুনিয়েছিল— 

ক) বন্ধুদের 

খ) তার মাকে 

গ) ছোটোমেসোকে

ঘ) ছোটোমাসিকে

16. মামার বাড়িতে থেকে তপন প্রথম গল্পটি লিখেছিল-

ক) দুপুরবেলা 

খ) সকালবেলা 

গ) বিকেলবেলা 

ঘ) রাত্রিবেলা

17. তপন গল্প লেখার জন্য কী নিয়ে দুপুরবেলা তিনতলার সিঁড়িতে উঠে গেল ? – 

ক) খাতা ও গল্পের বই 

খ) একটা খাতা ও পেন 

গ) একটা খাতা 

ঘ) পেন ও গল্পের বই

18. গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল তপনের ”–এর কারণ হল 

ক) অজানা আতঙ্ক 

খ) স্বরচিত গল্প পাঠের অনুভূতি 

গ) ভৌতিক গল্প পাঠের ফলশ্রুতি 

ঘ) নতুন মেসোর ব্যবহার

19. ঠাট্টাতামাশার মধ্যে তপন যে-কটি গল্প লিখেছে 

ক) একটি 

খ) দুটি-তিনটি 

গ) তিনটি-চারটি 

ঘ) চার-পাঁচটি

20. যেন নেশায় পেয়েছে”– যে নেশার কথা বলা হয়েছে 

ক) গল্প ছাপানোর নেশা 

খ) মেসোর সমকক্ষ হওয়ার নেশা 

গ) গল্প লেখার নেশা 

ঘ) বাড়িতে সম্মান বাড়ানোর নেশা


   অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর  

জ্ঞানচক্ষু গল্প | লেখিকা আশাপূর্ণা দেবী |অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর | সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | Saq প্রশ্নোত্তর | দশম শ্রেণী বাংলা প্রথম অধ্যায় সাজেশন ২০২২ 


১. কখন তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল ?

তপন যখন শুনল তার নতুন মেসোমশাই একজন লেখক তখনই তার চোখ মার্বেল হয়ে গেল।

২. বিয়ে হয়ে গেল দেদার ঘটাপটা করে।”—কার ঘটাপটা করে বিয়ে হয়েছিল ?

উত্তর : আশাপূর্ণা দেবী রচিত 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের প্রধান চরিত্র তপনের ছোটোমাসির ঘটাপটা করে বিয়ে হয়েছিল।

৩. এবিষয়ে সন্দেহ ছিল তপনের”— কোন্ বিষয়ে তপনের সন্দেহ ছিল ?

 একজন লেখকও যে সাধারণ মানুষের মতো হতে পারে, তাদের  আচরণও যে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই হয়ে থাকে, সেই বিষয়ে তপনের সন্দেহ ছিল।

৪. কাকে দেখে তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল ?

উত্তর : আশাপূর্ণা দেবী রচিত 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পে ছোটোমেসোমশাইকে দেখে তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল।

৫. “অনেক বই ছাপা হয়েছে”–কার অনেক বই ছাপা হয়েছে?

উত্তর : আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘জ্ঞানচক্ষু' গল্পের প্রধান চরিত্র তপনের লেখক ছোটোমেসোর অনেক বই ছাপা হয়েছে।

৬. “তবে তপনেরই বা লেখক হতে বাধা কী?”— তপনের লেখক হতে বাধা ছিল কেন ?

উত্তর: তপন মনে করত লেখকরা তার মতো সাধারণ মানুষ নন, তাঁরা হয়তো অন্য গ্রহের জীব। তাই তার নিজের লেখক হতে বাধা ছিল।

৭. তপনের লেখক হতে বাধা নেই কেন?

উত্তর:  নতুন মেসোকে দেখে তপন বুঝতে পারল তিনি আর পাঁচজনের মতোই সাধারণ মানুষ, আকাশ থেকে পড়া কোনো জীব নন। তাই তার নিজেরও লেখক হতে কোনো বাধা নেই।

৮. তপনের নতুন মেসো কোন্ পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?

উত্তর : আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের প্রধান চরিত্র তপনের নতুন মেসো পেশায় অধ্যাপক ছিলেন।

৯. তপনের লেখা গল্প দেখে তার ছোটোমেসো কী বলেছিলেন?

তপনের লেখা গল্প দেখে তার ছোটোমেসো বলেছিলেন যে, গল্পটা ভালোই হয়েছে। শুধু একটু সংশোধন করে দেওয়া দরকার। তাহলেই তার লেখা ছাপতে দেওয়া যাবে।

১০. কী কারণে মেসোমশাই তপনের লেখা ভালো বলেছিলেন?

ছোটোমেসোমশাইয়ের নতুন বিয়ে হয়েছে, তাই শ্বশুরবাড়ির একটি বাচ্চাছেলেকে খুশি করতেই মূলত তপনের মেসোমশাই লেখা ভালো হয়েছে বলেছিলেন।

১১. “তপন কৃতার্থ হয়ে বসে বসে দিন গোনে।”—তপন কেন কৃতার্থ হয়েছিল ?

উত্তর : ছোটোমেসো সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় ছাপিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তপনের গল্পটি নিয়ে গিয়েছিলেন বলে তপন কৃতার্থ হয়েছিল।

১২. সেটা জানতে তো বাকি নেই।”—কী জানতে বাকি নেই ?

উত্তর : গল্প জিনিসটা কী তা জানতে তপনের বাকি নেই।

১৩. হঠাৎ ভয়ানক একটা উত্তেজনা অনুভব করে তপন।”— তপন কেন উত্তেজনা অনুভব করেছিল ?

উত্তর : একটি সত্যিকারের গল্প লিখে ফেলেছিল বলে তপন উত্তেজনা অনুভব করেছিল।

১৪. গল্প লেখার পর তপনের কী মনে হয়েছিল?

উত্তর : একটা গোটা গল্প সে লিখে ফেলেছে – এটা ভেবেই তপনের সারা গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল, তার মাথার চুল পর্যন্ত খাড়া হয়ে উঠল। সে ভাবল এখন তাকেও লেখক বলা যায়।

১৫. তপন তার গল্প লেখার কথা প্রথম কাকে বলেছিল?

উত্তর : তপন তার গল্প লেখার কথা প্রথম তার ছোটোমাসিকে বলেছিল।

১৬. তপনের লেখা গল্প পড়ে ছোটোমাসি কী বলেছিল ?

উত্তর : তপনের লেখা গল্প পড়ে ছোটোমাসি ‘বেশ লিখেছিস তো' বলে বাহবা জানিয়ে প্রশংসা করলেও লেখাটি কোনো জায়গা থেকে টুকলিফাই করা কি না তা জানতে চেয়েছিল।

১৭. আর তোমরা বিশ্বাস করবে কিনা জানি না...' -কোন্ ঘটনার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর : একজায়গায় বসে তপনের একটা গোটা গল্প লিখে ফেলার প্রসঙ্গে আলোচ্য মন্তব্যটি করা হয়েছে।

১৮. যেন নেশায় পেয়েছে।”— কীসের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর : প্রশ্নোদ্ধৃত অংশটিতে তপনের গল্প লেখার অক্লান্ত চেষ্টার কথা বলা হয়েছে।

১৯. এমন সময় ঘটল সেই ঘটনা | _ কোন ঘটনার কথা বলা হয়েছে? 

উত্তর : আছি আর মেসোমশায়ের সন্ধ্যাতারা পত্রিকা নিয়ে তপনদের বাড়িতে আসার কথা বলা হয়েছে।

২০. ক্রমশ ও কথাটা ছড়িয়ে পড়ে | কোন কথাটার কথা বলা হয়েছে? 

উত্তর : তপনের গল্প কাঁচা লেখা হওয়ায় তাতে একটু আকটু কারেকশন করতে হয়েছে __ তপনের মেসোমশাই এর এই কথাটা সারা বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে

                রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর ২০২২

জ্ঞানচক্ষু গল্প | লেখিকা আশাপূর্ণা দেবী | রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর | বড় প্রশ্নোত্তর |laq প্রশ্নোত্তর | দশম শ্রেণী বাংলা প্রথম অধ্যায় সাজেশন ২০২২ 


1. কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল”— কোন্ কথা শুনে কেন তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল ? 

উত্তর :  উদ্দিষ্ট বক্তব্য: ছোটোমেসোমশাই একজন লেখক—এ কথা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল।

:- তপনের চোখ মার্বেল হয়ে যাওয়ার কারণ: তপনের ধারণা ছিল লেখকরা বোধ হয় অন্য জগতের মানুষ। তাই একজন লেখককে সামনে থেকে দেখা তার কাছে এক স্বপ্নপূরণের মতো ছিল। সেকারণেই ছোটোমেসো বই লেখেন আর সেই বই ছাপা হয় শুনে তপনের চোখ মার্বেলের মতো হয়ে গিয়েছিল। একজন 'সত্যিকার লেখক'-কে যে এভাবে সামনে থেকে দেখা সম্ভব সেটাই তপনের কাছে অবিশ্বাস্য ছিল।

2. নতুন মেসোকে দেখে জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল তপনের”— তপন কোথায় নতুন মেসোকে দেখেছিল ? কীভাবে তপনের নতুন মেসোকে দেখে জ্ঞানচক্ষু খুলে গিয়েছিল ?

উত্তর :  নতুন মেসোর সঙ্গে সাক্ষাৎ: ছোটোমাসির বিয়ে উপলক্ষ্যে মামার বাড়িতে গিয়ে তপন নতুন মেসোকে দেখেছিল।

:-  তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে যাওয়া: তপনের ভাবনায় লেখকরা ছিল এক অন্য জগতের মানুষ। কিন্তু লেখক ছোটোমেসোমশাইকে দেখে তার ধারণা সম্পূর্ণ পালটে যায়। তপন দেখল, নিছক সাধারণ মানুষের মতোই তাঁর সমস্ত আচার-আচরণ। তার বাবা, ছোটোমামা বা মেজোকাকুর মতোই তিনিও সিগারেট খান, দাড়ি কামান, বেশি খাবার দিলে বারণ করেন, তর্কে মেতে ওঠেন, দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে হতাশা প্রকাশ করে সিনেমা দেখতে কিংবা বেড়াতে চলে যান। এসব দেখেই তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গিয়েছিল।

3. তপন অবশ্য মাসির এই হইচইতে মনে মনে পুলকিত হয়।”—মাসি কেন হইচই করছিলেন এবং তাতে তপনের পুলকিত হওয়ার কারণ কী ?

উত্তর :  মাসির হইচই করার কারণ: তপনের লেখা গল্পটা হাতে পেয়ে ছোটোমাসি তপনকে উৎসাহিত করার জন্য হইচই শুরু করে দিয়েছিল।

:- তপনের পুলকিত হওয়ার কারণ: তপনের ছোটোমাসি গল্পটা কিছুটা পড়ে তপনের নতুন মেসোর হাতে দেয়। নতুন মেসো একইসঙ্গে কলেজের অধ্যাপক এবং লেখক। প্রথমে আপত্তি করলেও লেখক ছোটোমেসো অবশ্যই তার গল্পটার ভালোমন্দ বিচার করতে পারবেন— এই ভাবনাতেই তপন রোমাঞে পুলকিত হয়ে ওঠে।

4. রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই”- এখানে 'জহুরি' বলতে কার কথা বোঝানো হয়েছে? কথাটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর :  'জহুরি'-র পরিচয়: 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের অন্তর্গত আলোচ্য অংশটিতে ‘জহুরি' বলতে তপনের লেখক ছোটোমেসোর কথা বলা হয়েছে।

:- তাৎপর্য বিশ্লেষণ : তপন জীবনে প্রথমবার গল্প লিখে তার ছোটোমাসিকে দেখায়। ছোটোমাসি লেখাটি হাতে পাওয়ামাত্র তাঁর স্বামীকে দেখাতে নিয়ে যায়। তপনের ছোটোমেসো লেখক ছিলেন। জহুরি যেমন কোনটা আসল রত্ন আর কোনটা নকল তা বলতে পারেন, তেমনই একজন লেখকই বলতে পারেন কোন লেখাটা ভালো আর কোন্ লেখাটা খারাপ। তাই তপন ভেবেছিল এই লেখার আসল মূল্য শুধু তার মেসোমশাই-ই বুঝবেন।

5.গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল তপনের” – তপনের গায়ে কখন এবং কেন কাঁটা দিয়ে উঠল?

উত্তর  : শিহরনের মুহূর্ত: জীবনের প্রথম গল্পটি লিখে ফেলার পর তখন নিজে যখন সেটা পড়েছিল তখনই তার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছিল। 

:- শিহরনের কারণ: একদিন দুপুরে যখন চারিদিক নিস্তব্ধ, সে একটা খাতা আর কলম নিয়ে মামাবাড়ির তিনতলার সিঁড়িতে বসে সারাদুপুর ধরে একটা আস্ত গল্প লিখে ফেলে। গল্প লেখার পর সে নিজেই গোটা গল্পটা লিখেছে ভেবে অবাক হয়ে যায়। গল্প শেষ করার পর আনন্দে, উত্তেজনায় তপনের সারা গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে।

6. তপনকে এখন 'লেখক' বলা চলে”— এ কথা মনে হওয়ার কারণ কী? তপনের গল্পের নাম কী ছিল?

উত্তর : মনে হওয়ার কারণ: তপন ছোটোবেলা থেকে অনেক বই পড়ে গল্পে আগ্রহী হয়ে ওঠে। একদিন দুপুরে তপন তার বিদ্যালয়ে ভরতির প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটা গোটা গল্প লিখে ফেলে। একটা গোটা গল্প নিজে লিখে ফেলেছে, এ কথা ভেবে সে অবাক হয়ে যায়। তাই তখন তপনের মনে এই বিশ্বাস জন্মায় যে, তাকেও এখন লেখক বলা যেতে পারে।

:- তপনের লেখা গল্পের নাম: তপনের লেখা গল্পের নাম ছিল 'প্রথম দিন'।

7. বুকের রক্ত ছলকে ওঠে তপনের।”—কখন, কেন তপনের এই অবস্থা হয়েছিল ?

উত্তর : সময়কাল: মেসোর হাতে সন্ধ্যাতারা পত্রিকা দেখে তপনের এরুপ অবস্থা হয়েছিল।

:- তপনের এই অবস্থা হওয়ার কারণ: তপনের লেখা গল্পটি তার নতুন মেসো সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় ছাপিয়ে দেবেন বলে নিয়ে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন তপন সেই অপেক্ষায় বসেছিল। তারপর একসময় সে ভুলেই গিয়েছিল গল্পটির কথা। এরপর হঠাৎই তার ছোটোমাসি আর মেসো তাদের বাড়ি বেড়াতে এলেন। তপন মেসোর হাতে সন্ধ্যাতারা পত্রিকা দেখতে পেল। তার গল্প ছাপা হয়েছে—এই প্রত্যাশাতেই তার বুকের রক্ত যেন ছলকে উঠল।

8. পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে ?—অলৌকিক ঘটনাটি কী? তাকে অলৌকিক বলার কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর  : অলৌকিক ঘটনার পরিচয়। অলৌকিক ঘটনাটি ছিল। সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় তপনের লেখা প্রথম গল্পটির প্রকাশ।

:- অলৌকিক বলার কারণ: 'অলৌকিক' কথাটির অর্থ যা বাস্তবে সম্ভব নয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পরে তপন যেদিন দেখল যে, সত্যিই ছোটোমেসোর প্রতিশ্রুতিমতো তার গল্প পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, সেটা তার কাছে অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়। কারণ ছাপার অক্ষরে তার লেখা গল্প হাজার হাজার ছেলের হাতে ঘুরবে এ ঘটনাকে তপনের এতটাই অসম্ভব বলে মনে হয় যে, সে সেটিকে 'অলৌকিক' বলে মনে করে। 

9. তপন যেন কোথায় হারিয়ে যায় এইসব কথার মধ্যে।”— ‘এইসব কথা' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? তপনের হারিয়ে যাওয়ার কারণ কী ? 

উত্তর  : এইসব কথার অর্থ, সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় তপনের গল্প প্রকাশের পরে মেসো সুকৌশলে প্রকাশ করে দেন তাঁর কারেকশান' এর কথা। সে কথাটাই এরপর ছড়িয়ে পড়ে সারা বাড়িতে। তপনের বাবা যাবতীয় কৃতিত্ব মেসোমশাইকেই দেন। তার মেজোকার বলেন যে, ওরকম মেসো থাকলে তাঁরাও গল্প লেখার চেষ্টা করতেন। এমনকি তিনি না থাকলে তপনের গল্প সম্পাদক যে ছুঁয়েও দেখতেন না, সে-কথাও বলা হয়। ‘এইসব কথা' তপনকে প্রভাবিত করে।

:-  তপনের হারিয়ে যাওয়ার কারণ: তপনের হারিয়ে যাওয়ার কারণ এইসব কথা তার সব আনন্দকে অদৃশ্য করে দেয়।

10. “...সে আহ্লাদ খুঁজে পায় না। ”—কার কথা বলা হয়েছে? সেই আহ্লাদ না হওয়ার কারণ কী ছিল ?

উত্তর : উদ্দিষ্ট জন: প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে তপনের কথা বলা হয়েছে। ) আহ্লাদ না হওয়ার কারণ: তপনের ছোটোমেসোর সহায়তায় সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় তার গল্প প্রকাশিত হলে চারিদিকে সবাই মেসোর মহত্ত্বের কথাই বলতে থাকে। মেসো না থাকলে কোনোদিনই সন্ধ্যাতারা পত্রিকার সম্পাদক তপনের লেখা ছুঁয়েও দেখত না—এরকম কথাও অনেকে বলে। এইসব কথার মাঝখানে আসল যে লেখক, সে-ই যেন কোথাও হারিয়ে যায়। তপনের যেন কোনো কৃতিত্বই নেই। এইসব দেখে লেখা ছেপে আসার পর যে আহ্লাদ হওয়া উচিত ছিল তা হয় না তপনের।

11. তপনের মনে হয় আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন”। –'আজ' বলতে কোন দিনকে বোঝানো হয়েছে? তপনের এরকম মনে হওয়ার কী কারণ ছিল?

উত্তর :  উদ্দিষ্ট দিন: সন্ধ্যাতারা পত্রিকাটি যেদিন তপনের বাড়িতে আসে এবং মায়ের কথায় সে সেখানে তার প্রকাশিত গল্পটি পড়তে যায়, সেদিনের কথাই এখানে বলা হয়েছে।

:- তপনের মনে হওয়ার কারণ গল্প পড়তে গিয়ে তপন দেখে সংশোধনের নামে ছোটোমেসো সেই লেখার আগাগোড়াই বদলে দিয়েছেন। তার নিজের লেখার সঙ্গে ছেপে আসা লেখার কোনো মিল নেই। লজ্জায়, অপমানে তপন ভেঙে পড়ে। তার চোখে জল চলে আসে। যে দিনটি সবচেয়ে আনন্দের দিন হতে পারত, সেটিকেই তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন বলে মনে হয়।

12. শুধু এই দুঃখের মুহূর্তে গভীরভাবে সংকল্প করে তপন— কোন্ দুঃখের মুহূর্তের কথা বলা হয়েছে? তপন গভীরভাবে কী সংকল্প করেছিল ?

উত্তর:  দুঃখের মুহূর্ত। নিজের লেখা হিসেবে সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় তপন যখন অন্যের লেখা পড়েছিল সেটাই ছিল তার চরম দুঃখের মুহূর্ত।

:- তপনের গভীর সংকল্প: নিজের লেখা পড়তে গিয়ে তপন দেখে, মেসোমশাই আগাগোড়াই লেখাটা সংশোধন করে নিজের পাকা হাতে গল্পটি লিখে দিয়েছেন। অপমানে, লজ্জায় তপন প্রতিজ্ঞা করে যদি আর কোনোদিন লেখা ছাপানোর হয়, সে নিজে গিয়ে তা ছাপতে দেবে। না ছাপলেও ক্ষতি নেই, অন্তত নিজের নামে অন্য কারও লেখা তাকে পড়তে হবে না। 



প্রশ্ন : আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের নামকরণ কতদূর সার্থক হয়েছে লেখো।

উত্তর : যে-কোনো সাহিত্যকর্মের নামকরণ করা হয় বিষয়বস্তু, চরিত্র বা ভাব অনুযায়ী, আবার কখনও তা হয় ব্যঞ্জনাধর্মী। যে-কোনো সাহিত্যসৃষ্টির ক্ষেত্রেই নামকরণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

উত্তর : জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের নামকরণটি মূলত ব্যঞ্জনাধর্মী। 'জ্ঞানচক্ষু' কথাটির অর্থ হল অন্তর্দৃষ্টি বা জ্ঞানরূপ দৃষ্টি। এই গল্পের একেবারে শেষ পর্যায়ে দেখা যায় তপন চরিত্রটির প্রকৃত জ্ঞানচক্ষুর উন্মীলন হয়েছে।

এই গল্পে প্রাথমিকভাবে তপনের জ্ঞানচক্ষুর উন্মোচন ঘটেছে যখন প্রথমবার সে তার লেখক ছোটোমেসোকে দেখেছে। লেখকরা যে অন্য জগতের বাসিন্দা নন, বাস্তবের চেনা মানুষদের মতোই তাদের জীবনযাপন—এই সত্য উপলব্ধি করেছে তপন। তপনের লেখা প্রথম গল্পটি নতুন মেসোমশাই অর্থাৎ ছোটোমেসো কিছু সংশোধন করে সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় ছাপিয়ে দেন। কিন্তু ছাপার অক্ষরে নিজের লেখাটি সকলের সামনে পড়তে গিয়ে তপন মনে খুব আঘাত পায়। কারণ সে বুঝতে পারে, মেসোমশাই সংশোধনের নামে পুরো লেখাটাই বদলে দিয়েছেন। সেটাকে আর নিজের বলে চিনতেই পারে না তপন । লজ্জায়, অপমানে, দুঃখে সে যেন মাটিতে মিশে যায়। নিজের গল্প পড়তে বসে, অন্যের লেখা লাইন পড়তে গিয়ে তপনের ভিতরে গ্লানিবোধ জেগে ওঠে। সে সংকল্প করে, লেখা যদি ছাপতেই হয় তাহলে পত্রিকা দফতরে নিজে গিয়ে তা দিয়ে আসবে। নিজের সেই লেখাটি না ছাপলেও দুঃখ থাকবে না তার। সেখানে তপনেরই নিজস্বতা থাকবে, অন্য কেউ সেই কৃতিত্বের ভাগীদার হবে না। এভাবেই আত্মমর্যাদা ও নিজের লেখার প্রতি অধিকারবোধ তপনের জ্ঞানচক্ষুর উন্মেষ ঘটিয়েছে। তাই বলা যায়, গল্পের ‘জ্ঞানচক্ষু' নামকরণটি যথাযথ হয়েছে।

প্রশ্ন : জ্ঞানচক্ষু' গল্প অবলম্বনে তপন চরিত্রটির পরিচয় দাও।

উত্তর কথামুখ: আশাপূর্ণা দেবীর 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র তপন। তার চরিত্রের যে বৈশিষ্ট্যগুলি গল্পে দেখতে পাওয়া যায়, তা হল— কল্পনাপ্রবণতা: লেখক সম্পর্কে তপনের মনে এক বিস্ময় বাসা বেঁধেছিল। সে ভাবত, লেখকরা অন্য জগতের বাসিন্দা, আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের কোনো মিলই নেই। 

সৃজনশীলতা: ছোটোমাসির বিয়ের পর তপনের ধারণা সম্পূর্ণ বদলে যায়। কারণ তার নতুন মেসো ছিলেন একজন লেখক, যাঁর অনেক বই ছাপা হয়েছে। একজন লেখককে খুব কাছ থেকে দেখে লেখক হওয়ার প্রেরণায় তপন লিখে ফেলে সম্পূর্ণ একটা গল্প। নতুন মেসো সেই গল্পের প্রশংসা করায় তপন লেখক হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।

আবেগপ্রবণতা ও সংবেদনশীলতা: সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় তপনের গল্পটা ছেপে বেরোলে সে অবাক হয়ে যায়। এর কারণ, মেসো সংশোধন করতে গিয়ে তার লেখা গল্পটা আগাগোড়া পালটে দিয়েছেন। তপন সেই গল্পের মধ্যে নিজেকেই খুঁজে পায় না। তাই সে হতাশ হয়ে পড়ে।

আত্মাভিমান: মেসোর সংশোধনের ফলে তার নিজের লেখার পালটে যাওয়া তপন মেনে নিতে পারে না। তাই সে সংকল্প করে, ছাপা হোক বা না হোক, এবার থেকে নিজের লেখা নিজেই পত্রিকা সম্পাদকের কাছে জমা দেবে। এই আত্মসম্মানবোধই তপনকে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ করেছে। 

প্রশ্ন : ছোটো গল্প হিসেবে জ্ঞানচক্ষু গল্পটির সার্থকতা আলোচনা কর 

উত্তর : আশাপূর্ণা দেবীর জ্ঞানচক্ষু গল্পটি সূচনা হয়েছে ছোট গল্পের প্রত্যাশিত আকস্মিকতা দিয়ে “কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল!” তপন নামের একটি কিশোর চরিত্রকে গল্পের কেন্দ্রে রেখে লেখিকা তার স্বপ্ন আর স্বপ্নভঙ্গের কাহিনি রচনা করেছেন। তপনের লেখক মেসোমশাই তার লেখাকে আপাদমস্তক পালটে দিয়ে সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় প্রকাশের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এই ঘটনায় তপনের লেখকসত্তা প্রবল আঘাত পায়। ছাপার অক্ষরে শুধুই নিজের নামের প্রকাশ নয়, নিজের সৃজনশীলতার প্রতি স্বীকৃতির আকাঙ্ক্ষা এবং তা না হওয়ার যন্ত্রণা তপন চরিত্রটিকে অন্য মাত্রা দেয়। কাহিনির পরিণতি যতই গুরুগম্ভীর হোক, তাকে অসামান্য ভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন লেখিকা। গল্পে তপনের লেখক মেসোমশাইয়ের চরিত্রটি বর্ণনার গুণে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে – “ঠিক ছোটো মামাদের মতোই খবরের কাগজের সব কথা নিয়ে প্রবলভাবে গল্প করেন, তর্ক করেন, আর শেষ পর্যন্ত ‘এ দেশের কিছু হবে 'না' বলে সিনেমা দেখতে চলে যান... - এই অনবদ্য রচনাশৈলী কাহিনিকে গতিশীল করেছে। তবে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, 'জ্ঞানচক্ষু' গল্পটি সার্থকতা পেয়েছে তার পরিণতিতে। মৌলিকতায় বিশ্বাসী এক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন কিশোর লেখকের যন্ত্রণা শুধু চরিত্রটিকে নয়, গল্পটিকেও অসামান্যতা দিয়েছে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ